রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা
সকালে ঘুম থেকে জেগেই বিষণ্ন খবরটি শুনেই বিহ্বল হয়ে পড়লাম। কারণ আমার আর মিতার যোগসূত্রটা একই স্থানে। হেঁটেছিও একই পথে। মিতা আর আমার পড়াশোনা একই জায়গায়। শান্তিনিকেতন। বিষয়ও একই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাকে প্রথমে আমি চিনি ওয়াহিদ ভাইয়ের মেয়ে হিসেবে। সেই শুরু। এরপর তো দেশে ফিরে এলাম। মিতা ব্যস্ত হয়ে গেল রবীন্দ্রসংগীতে। আমিও তাই। সাংগঠনিকভাবে তিনি কাজ করে চললেন। এরপর বহু কাজ করে গেছেন মিতা। বহু অনুষ্ঠানে আমরা একমঞ্চে দাঁড়িয়েছি শিল্পী হিসেবে।
মনে আছে, ২০১৭ সালে চ্যানেল আই রবীন্দ্র উত্সবে তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। সেখানে আমিও ছিলাম। আজীবন সম্মান জানানোর মতোই ছিলেন তিনি। তার এই অসময়ে চলে যাওয়াটা সত্যিই কষ্টের। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।
তপন মাহমুদ
সকাল সাড়ে ৬টার দিকে টেলিভিশনের মাধ্যমে জানলাম মিতা আর নেই। শুনে কতটা কষ্ট পেয়েছি তা বলে বোঝানো যাবে না। মিতাকে আমি প্রথম দেখি ৩০-৩৫ বছর আগে। মিতা বয়সে আমার অনেক ছোট। তবে কাজ করতে করতে সম্পর্কটা ভাইবোন ও বন্ধুর মতো হয়ে গিয়েছিল। আমাদের আত্মিক যোগাযোগের কোনো কমতি ছিল না। আমরা আলাদা সংগঠনের হয়েও কেউ কাউকে কখনো ফিরিয়ে দিইনি। আমার যত অনুষ্ঠানে ডেকেছি তার বেশিরভাগেই তিনি উপস্থিত হয়েছেন। সম্ভবত দু’বছর আগে তাকে সংস্থার পক্ষ থেকে আমরা সম্মাননা দেই। তখন তিনি অসুস্থ। অনুষ্ঠানে মিতা আমাকে বললেন, ‘তপন ভাই, আমি বয়সে আপনার অনেক ছোট, অথচ আপনি আমাকে সম্মাননা দিলেন।’ আমি বললাম, ‘তুমি আমার চেয়ে অনেক বড় শিল্পী, তাই দিলাম।’ আমি আমার বড় শিল্পীকে হারালাম। বিষাদে মনটা ছেয়ে আছে। যেন এ বিষাদ কেটে ওঠার নয়।
অণিমা রায়
মিতা হক সম্পর্কে আর কী বলবো! আমার সংগীত শিক্ষা জীবনের সবটা জুড়েউ তো মিতা হক। সেই ছোটবেলা থেকে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। আজ সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে তার মমত্ববোধের কথা। গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক যে কতটা গভীর হয় সেটা মিতা আপাকে না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না। শুধু শিষ্য না, যে-ই আপার কাছে গেছেন তাকে আর কখনো মিতা আপাকে ভোলার কথা না। কার কোন জায়গায় দুর্বলতা সেটা ধরে শুধরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ওনার ছিল। অনেক সময় দেখা যায় একটা সময় গুরু শিষ্যের মাঝে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। কিন্তু মিতা আপা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন। আজকের এই আমির পুরোটাই মিতা হক, মিতা হক, মিতা হক। আমার প্রতিটি ভালো-খারাপ সংবাদে আপা কল করে কথা বলতেন। সেই আদর, স্নেহ, ভালোবাসা সারাজীবনের জন্য হারালাম। সৃষ্টিকর্তা ওনাকে শান্তিতে রাখুন।
ফাহমিদা নবী
আজ এতটাই খারাপ লাগছে যে, কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। সবচেয়ে বড় কথা হলো আরেকজন মিতা হক আর আসবে না। ওনার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল সবাইকে সহজেই আপন করে নিতে পারতেন। ব্যক্তিগুতভাবে সবার সঙ্গেই আলাদা আলাদাভাবে ভালো সম্পর্ক ছিল ওনার। সবার সঙ্গে পারিবারিক একটা সম্পর্ক বজায় রাখাতে পারতেন তিনি। আমি পরিবারের একজনকে হারালাম। আল্লাহ ওপারে তাকে ভালো রাখুন।
