লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে জাটকা নিধন। স্থানীয় অসাধু মত্স্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জোট বেঁধে কিছু জেলে দ্রুতগামী ইঞ্জিনচালিত নৌকার সাহায্যে ইলিশ নিধন করছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। এ কাজে ব্যবহূত হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। অবাধে জাটকা ধরার কারণে এবার ইলিশ উত্পাদনে ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মত্স্য বিশেষজ্ঞরা। জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন নদীতে মাছ শিকারের দায়ে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড এবং উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, মেঘনা নদীর আলতাফ মাস্টার ঘাট, চরভৈরবী, জালিয়ারচর, মেঘনা বাজার, বাবুর চর, হাজিমারা, কানিবগা, চরঘাসিয়া, পুরান বেড়ি, চান্দার খালসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হারে জাটকা নিধন চলছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলার বিভিন্ন মাছ ঘাটের নদী এলাকায় দেখা গেছে, জাটকা বিক্রির ধুম। অভিযোগ রয়েছে, আলতাফ মাস্টার ঘাট ও হাজিমারা এলাকায় একটি সিন্ডিকেট মাছ শিকারে কাজ করছে।
জেলা মত্স্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকা মাছের অভয়াশ্রম। মার্চ-এপ্রিল (দুই মাস) অভয়াশ্রমে জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিচরণ করে, বেড়ে উঠবে। এমন পরিস্থিতিতে সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ সময় জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হবে।
জেলে আবুল ফয়েজ, আনোয়ার মাঝি, রাসেল মিয়া ও সাফয়েত উল্যা জানান, সরকারি সহায়তা না পেয়ে ক্ষুধায় মোট জেলের ৪০-৫০ শতাংশ এবার মাছ ধরছেন। প্রতি বছরের চেয়ে এবার জাটকা শিকারের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। রাতের আঁধারে অবৈধ জালে মেঘনা নদীতে প্রতিদিন জাটকা ধরা হচ্ছে। এসব মাছ রাতে লঞ্চ, ট্রলার, বাস, ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে মোকামে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন-চার জন আড়তদার বলেন, এসব মাছ ঢাকার মোকামে নিতে বিভিন্ন স্থানে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। দাদনের ফাঁদে ফেলে গরিব জেলেদের দিয়ে জাটকাসহ রেণুপোনা ধরানো হচ্ছে। স্থানীয় সফিক উল্যা, ফোরকান মিয়া ও নুর নবী বলেন, লক্ষ্মীপুরের প্রভাবশালী মত্স্য আড়তদারদের মধ্যে অনেকে নিষেধাজ্ঞার সময় অবৈধভাবে জাটকাসহ রেণু ধরছেন।
জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, আমরা মার্চের প্রথম দিন থেকে অভিযান চালাচ্ছি। তা এখনো চলছে। অভিযান চালিয়ে অনেক নৌকা, জাটকা, জেলে এবং কয়েক লাখ মিটার কারেন্টজাল আটক করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তার পরও কেন জেলেরা চাল পাচ্ছেন না বলছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
