বিশেষ প্রতিনিধি
করোনায় মৃত ৩ হাজার ১০৬ জনের শেষ যাত্রায় পাশে ছিল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক দল। কি মুসলিম, কি সনাতন, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান—করোনায় মৃত কিংবা উপসর্গ নিয়ে মৃত কিংবা অন্য যে কোনো কারণে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে শেষ বিদায় জানাতে হাজির হচ্ছেন এ স্বেচ্ছাসেবকরা। গত বছর ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয় করোনায় আক্রান্ত মৃতের জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের দাফন সেবা। তবে এখন শুধু করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকেই নয়, বরং অন্য যে কোনো কারণে মারা যাওয়া ব্যক্তিকেও শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে। ২০০৪ সাল থেকে স্বল্প পরিসরে বেওয়ারিশ লাশ দাফনের ভেতর দিয়ে এ কার্যক্রমের শুরু। এ পর্যন্ত করোনা ছাড়া অন্য কারণে মারা যাওয়া ১ হাজার ২৩ জনকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে চার সহস্রাধিক মৃতের শেষ বিদায়ে পাশে থেকেছে কোয়ান্টাম।
কোয়ান্টাম দাফন কার্যক্রমের দায়িত্বশীল খন্দকার সজিবুল ইসলাম বলেন—হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান সব ধর্মের মৃতদের জন্যই আমাদের সেবাকাজ চলছে। সারা দেশেই সুসংগঠিতভাবে সেবাদানে নিয়োজিত আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দল। গত বছর ৭ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে করোনায় মারা যাওয়া মোট ৩ হাজার ১০৬ জনের দাফন-কাফন, সত্কার, সমাধি বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে কোয়ান্টাম। এর মধ্যে মুসলিম ২ হাজার ৬৩৩ জন, সনাতন ৪২৪ জন, বৌদ্ধ ২১ জন এবং খ্রিষ্টান ২৮ জন। প্রসঙ্গত, করোনায় মারা যাওয়া দেহের দাফন বা শেষকৃত্যে প্রায় ৩০ রকমের উপকরণ ব্যবহার করে কোয়ান্টাম। দাফন কাজে সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয় অ্যালকোহলসহ কয়েক ধরনের জীবাণুনাশক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী দাফন কার্যক্রম চলছে।
কোয়ান্টাম স্বেচ্ছাসেবক দলে কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকরিজীবী, কেউ অ্যাডভোকেট, কেউবা শিক্ষার্থী। নিজ পরিবার ছেড়ে নির্ধারিত ক্যাম্পে অবস্থান করছেন তারা। দিনে বা রাতে ২৪ ঘণ্টাই সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নিবেদিতপ্রাণ এই স্বেচ্ছাকর্মীরা।
