হাতিরঝিলে দুর্ঘটনা নাটক
বিশেষ প্রতিনিধি
হাতিরঝিলে গৃহবধূ হাসনা হেনা ঝিলিককে হত্যার পর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নাটক সাজানোর মামলায় তার স্বামী সাকিব আলম মিশু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দুই দফা রিমান্ড শেষে গতকাল রবিবার মিশুকে আদালতে হাজির করা হয়। মিশু স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৪ এপ্রিল মিশুর তিন দিন এবং ৮ এপ্রিল দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ঐ মামলায় ঝিলিকের শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম, শাশুড়ি সাঈদা আলম, দেবর ফাহিম আলম এবং টুকটুকি কারাগারে আছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল হাসনা হেনা ঝিলিককে স্বামীর বাড়িতে হত্যা করা হয়। পরে হাতিরঝিলের রাস্তায় প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় ঝিলিকের মৃত্যুর নাটক সাজায় মিশু। এ ঘটনায় ঝিলিকের মা তাহমিনা হোসেন আসমা গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের প্রথম দিকে সাকিব আলম মিশুর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় নিহত ঝিলিকের। পরে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তারা। মিশু বাবা-মায়ের কাছে পছন্দের বিষয়টি জানালে তারা বিয়েতে অমত দেন। কারণ, ঝিলিক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সাকিব আলম মিশুর পরিবার গুলশান-২-এর স্থায়ী বাসিন্দা। আর ঝিলিকের পরিবার মোহাম্মদপুরের তাজমহল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। তাই আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ায় সাকিবের পরিবার ‘গরিব পরিবারের মেয়ের সঙ্গে’ ছেলের বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। সাকিব তাকে ছাড়া অন্য মেয়েকে বিয়ে করবেননা বলে জানিয়ে দেন তার পরিবারকে। একপর্যায়ে ছেলের জেদের কাছে হার মানে তারা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয় তাদের। কয়েক মাস তারা ভালোই ছিলেন। ২০২০ সালের শুরুর দিক থেকে শুরু হয় অশান্তি।
