রমজানে ভেজালবিরোধী অভিযান কঠোর করবে বিএসটিআই

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২১, ২২:০৬

চিনির দাম বাড়িয়েছে চিনিশিল্প করপোরেশন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আসন্ন রমজানে খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। রমজানে ভেজাল রোধে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিএসটিআইয়ের (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) দুটি টিম রাজধানীতে অভিযান পরিচালনা করবে। এছাড়া রাজধানীর আশপাশের জেলার পাশাপাশি দেশব্যাপী সব জেলা ও উপজেলায়ও ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। রজমানকে সামনে রেখে বিএসটিআইয়ের ভেজালবিরোধী অভিযান বিষয়ে অবহিত করতে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী। অনলাইনে আয়োজিত (ভার্চুয়াল) ঐ সংবাদ সম্মেলনে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প সচিব কে এম আলী আজম ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও করপোরেশনের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, আসন্ন রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের চিনি ও লবণের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। যদি কেউ কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চক্র কৃত্রিম অভাব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। চিনি ও লবণের কোনো স্বল্পতা নেই।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারও বলেন, রমজানে বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম কমে। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করার চিন্তা করছি। এছাড়া বিএসটিআইয়ের দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনায় লোকবলের অভাব হবে না বলেও জানান তিনি।

চিনির দাম বাড়িয়েছে চিনি শিল্প কর্পোরেশন : রমজানের আগে চিনির নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন। নতুন দাম অনুযায়ী চিনি শিল্প করপোরেশনের আওতাধীন মিলগেট থেকে নতুন দামে চিনি বিক্রি করা হবে। নতুন দাম অনুযায়ী, খোলা চিনি প্রতিকেজি ৬৩ টাকা দরে (ডিলার কমিশনসহ) বিক্রি করা হবে। আগে এই চিনি বিক্রি করা হতো ৬০ টাকা দরে। অন্যদিকে প্যাকেটজাত চিনি ৬৮ টাকায় বিক্রি করা হলেও তার সর্বোচ্চ দাম ৭৫ টাকা হবে। এই চিনি আগে বিক্রি হতো ৭০ টাকায়।

সংবাদ সম্মেলনে চিনির নতুন দামের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন চিনি খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি উত্পাদনে ব্যয় হয় ২০০ টাকা। বাকি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। তবে প্রতি কেজি চিনিতে এত টাকা কীভাবে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি তিনি। এ সময় শিল্পমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৪৪ হাজার টন চিনির মজুত রয়েছে। চিনির দামে দুই টাকা এদিক-ওদিক হতে পারে, কিন্তু কোনো ঘাটতি নেই।