পিলখানায় নির্যাতনে গৃহকর্মীর মৃত্যু শিক্ষক রিমান্ডে

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২১, ০০:৩৯

রাজধানীর পিলখানায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি আবাসিক ভবন থেকে লাইলি আক্তার (১৬) নামে এক গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে নিউমার্কেট থানা পুলিশ। শনিবার বিকালে কলেজের শিক্ষিকা ফারজানা ইসলামের আবাসিক ভবনের (১/১-এইচ নম্বর বাসা) চতুর্থতলা থেকে ঐ লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। এদিকে পৃথক ঘটনায় শনিবার রাতে রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন ব্যাংক কলোনির দক্ষিণগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে অজ্ঞাতনামা (৩৫) এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুল বিশ্বাস মুকুল বলেন, বিকালে কলেজ শিক্ষিকার আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলা থেকে গৃহকর্মী লাইলির লাশ উদ্ধার করা হয়। সে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার সন্তান। ঐ শিক্ষিকার বাসায় গত আট মাস ধরে গৃহকর্মীর কাজ করতো। এসআই বলেন, লাইলির শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঠোঁটের ডান পাশে ক্ষত, থুতনিতে কাটা দাগ, গলায় ক্ষতচিহ্ন, ডান কোমরে থেঁতলানো জখম, কোমরের পিছনে চামড়া ওঠানো ও দুই হাঁটু থেতলানোসহ পায়ের পাতা পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে গরম পানি দিয়ে ঝলসানো ও ফোসকা পড়া অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মারধর ও আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহকর্মীর মা বাদী হয়ে নিউমার্কেট থাকায় একটি মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

নিহতের মা শ্যামলা বেগম বলেন, লাইলির ফুফুর মাধ্যমে আট মাস আগে ১ হাজার টাকা বেতনে তাকে ঐ বাসায় কাজে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময় দেখা করতে চাইলেও দেখা করতে দিত না। মেয়েটিকে পিটিয়ে ও বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আদালত সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারজানা ইসলামকে রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অজ্ঞাত নারীর লাশ: সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রিয়তোষ চন্দ্র দত্ত জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণগাঁওয়ের ৯২/১ ফ্ল্যাটের তৃতীয় তলার একটি বাসার দরজার সামনে থেকে কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় ঐ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তার দুই চোয়ালের মাংস কাটা ও দাঁত বের হওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া গলার ডান পাশে তিন ইঞ্চি কাটা জখম ছিল। ভবনের কেউ তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। মুখমন্ডল পলিথিন দিয়ে আর সমস্ত শরীর কাঁথা দিয়ে মোড়ানো ছিল। শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে এসআই জানান, ভবনটির তৃতীয় তলায় পাশাপাশি তিনটি ফ্ল্যাটে মালিকের দুই ছেলে থাকেন। শনিবার বেলা ১২টার দিকে মালিকের ছোট ছেলে স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে যান। বেলা ৩টার দিকে বাসায় ফিরে তাদের ফ্ল্যাটের সামনে কাঁথা দিয়ে মোড়ানো ঐ নারীর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। সিআইডির ক্রাইম সিনও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ভবনের ভেতরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সবুজবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আমিনুল বাশার বলেন, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঐ নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ হত্যার ঘটনা খতিয়ে দেখাসহ ঐ নারীর পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে।