নন্দীগ্রামের মতো শীতলকুচিতেও গণহত্যা :মমতা

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২১, ০০:৩৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে সহিংসতার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। তৃণমূল নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, নন্দীগ্রামের মতো কোচবিহারের শীতলকুচিতেও গণহত্যা হয়েছে। অযোগ্য সরকার, অযোগ্য প্রধানমন্ত্রী, অযোগ্য তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, মমতা ব্যানার্জির উসকানিতেই এ ঘটনা ঘটেছে। তার বিদায়ের সময় এসে গেছে। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল অনুপ্রবেশ রুখতে পারেনি। আমরা ক্ষমতায় এলে একটা পাখিকেও ঢুকতে দেব না। যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের জেলে ঢোকানো হবে।’

পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। চলছে জোর নির্বাচনি প্রচারণাও। গতকাল রবিবার শিলিগুড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, শুক্রবার ভোট চলাকালে শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার জনের মৃত্যু হয়। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে ১৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছিল। দুটি ঘটনাকে একই কাতারে এনে মমতা বলেন, ?নন্দীগ্রামে সেদিন গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। এটাও একটা গণহত্যা। তারা মানুষকে ভয় দেখাতে চায়, কিন্তু মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত নয়। ধমকানো হচ্ছে, গুলি করে মানুষ মারা হচ্ছে। আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানোর তত্ত্ব খণ্ডন করে মমতা বলেন, কোথায় আত্মরক্ষা!? বাহিনী আক্রান্ত হলে তার কোনো ছবি বা ভিডিও নেই কেন? আহতরা কোথায়?? এটা তাদের বানানো ঘটনা।

শনিবার মমতা জানান, রবিবার (গতকাল) শীতলকুচি যাবেন ও মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু রাতেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো সর্বভারতীয় বা রাজ্যনেতা কোচবিহারে যেতে পারবেন না। ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, ?‘নজিরবিহীন ঘটনা। আমাকে যেতে না দেওয়ার জন্য এই আইনটা করেছে। যাতে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না পারি।’ এরপর তিনি ভিডিও কলে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সাহায্যের আশ্বাস দেন।

এর আগে রবিবার সকালে মমতা ?টুইট করে নির্বাচনকালীন মডেল কোড অব কনডাক্ট (?এমসিসি)-কে ‘মোদি কোড অব কনডাক্ট’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি শীতলকুচির ঘটনার প্রতিবাদে কালো চাদর গায়ে সভা করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লাখ এবং আহতদের ২ লাখ টাকা দেবে বলে জানান। জলপাইগুড়িতে এক সমাবেশে মমতা বলেন, ?মানুষের ভোটই হচ্ছে ব্যালটে বিজেপির চক্রান্তের জবাব। বুলেটের জবাব ব্যালটে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে গতকাল পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটে এক জনসভায় অমিত শাহ বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জি  বারবার আমার পদত্যাগ দাবি করছেন। মানুষ চাইলে আমি পদত্যাগ করব। কিন্তু মনে রাখবেন, ২ মে দিদিকে পদত্যাগপত্র জমা দিতেই হবে রাজ্যপালের কাছে। কারণ বাংলায় পরিবর্তন আসছে। দিদির বিদায় নিশ্চিত।’