প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য ১৭ এপ্রিল

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২১, ০০:৪০

প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে উইন্ডসরে আগামী ১৭ এপ্রিল। ডিউকের শেষকৃত্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হবে না। সেটি হবে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক রীতি অনুযায়ী। এ তথ্য জানিয়ে বাকিংহাম প্রাসাদের মুখপাত্র বলেছেন, ডিউকের শেষকৃত্য হবে তার শেষ ইচ্ছা মেনে। এদিকে রানি বলেছেন, প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যু তার জীবনের বড় শূন্যতা। খবর বিবিসি ও সিএনএনের

প্রাসাদ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ এপ্রিল শনিবার ব্রিটেনের স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় ফিলিপের শেষকৃত্য হবে। এই অনুষ্ঠানে তার বর্ণময় দীর্ঘ জীবনের নানা দিক প্রতিফলিত হবে। মহামারির নিয়মবিধি মেনে প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্যানুষ্ঠান সীমিত আকারে করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রানি এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন।

উইন্ডসর ক্যাসেলের নিজস্ব চ্যাপেল সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে ডিউক অব এডিনবারার মরদেহ শায়িত রাখা হয়েছে। প্রাসাদ জানিয়েছে, তার কফিন ঢাকা আছে তার ব্যক্তিগত পরিচিতি বহনকারী কাপড়ে এবং তার ওপর সাজানো রয়েছে পুষ্পস্তবক। তার মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত রাখা হবে না। শনিবার তার কফিন উইন্ডসর ক্যাসেলের প্রবেশদ্বার থেকে গাড়িতে তোলা হবে। ডিউক নিজেই এই যাত্রার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রাসাদ থেকে বলা হয়েছে, প্রিন্স অব ওয়েলস, প্রিন্স চার্লসসহ রাজপরিবারের সদস্যরা ডিউক অব এডিনবারার কফিনের পেছনে পায়ে হেঁটে চ্যাপেলে যাবেন, তবে রানি যাবেন আলাদাভাবে।

ব্রিটেনে শনিবার ৪১ বার তোপধ্বনি করে এবং গির্জায় ঘণ্টা বাজিয়ে রানি এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অব এডিনবারাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। ব্রিটেনের বিভিন্ন জায়গা থেকে, সেই সঙ্গে স্পেনের জিব্রালটার এবং সমুদ্রে রণতরি থেকে সমন্বিত ও বর্ণাঢ্য তোপধ্বনি করা হয়েছে। ব্রিটিশ সময় দুপুর ১২টা থেকে লন্ডন, স্কটল্যান্ডের এডিনবারা, ওয়েলসের কার্ডিফ ও আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট থেকে প্রতি মিনিটে এক রাউন্ড করে ৪১ বার তোপধ্বনি করা হয়। সমুদ্রে রয়্যাল নেভির জাহাজগুলো থেকেও ডিউকের স্মরণে তোপধ্বনি করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রিন্স নেভাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে তিনি লর্ড হাই অ্যাডমিরাল পদে আসীন ছিলেন।

জীবনের বড় শূন্যতা :রানি

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বলেছেন, স্বামী প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যু তার জীবনে বড় শূন্যতার। তাদের সন্তান প্রিন্স অ্যান্ড্রু গতকাল রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। উইন্ডসর চ্যাপেলে এক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে ডিউক অব ইয়র্ক, প্রিন্স অ্যান্ড্রু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আমার মায়ের জন্য খুব দুঃখবোধ করছি। কারণ বাবার মৃত্যুতে মায়ের চেয়ে আর কেউ এত বেশি আঘাত পাননি।’ প্রিন্স অ্যান্ড্রু বলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন এক স্মরণীয় ব্যক্তি। আমি বাবাকে খুব ভালোবাসি। তিনি ছিলেন খুব শান্ত প্রকৃতির। কেউ কোনো সমস্যায় পড়লে তা নিয়ে তিনি ভাবতেন। তিনি মানুষের জন্য কিছু করতে চাইতেন।’ তিনি বলেন, ‘রাজপরিবার একটা বিরাট বিবেককে হারিয়েছে। আর আমরা জাতির দাদাকে হারিয়েছি।’ মা রানির অবস্থা কেমন—এ প্রশ্নের জবাবে প্রিন্স অ্যান্ড্রু বলেন, ‘মা সত্যিকারে একজন সরল মানুষ। তিনি বাবার মৃত্যুকে রহস্যময় হিসেবে উল্লেখ করছেন।’ ডিউক অব ইয়র্ক বলেন, ‘মা বলেছেন, বাবার মৃত্যু তার জীবনে বিরাট শূন্যতা তৈরি করেছে।’ ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৭৩ বছরের জীবনসঙ্গী, তার স্বামী ডিউক অব এডিনবারা ৯৯ বছর বয়সে গত শুক্রবার উইন্ডসর প্রাসাদে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দ্বন্দ্ব নিরসনের অপূর্ব সুযোগ

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজর বলেছেন, ডিউক অব এডিনবারার শেষকৃত্য হতে পারে রাজপরিবারের দ্বন্দ্ব নিরসনের অপূর্ব সুযোগ। মা ডায়ানার মৃত্যুর পর প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করা জন মেজর বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকলে সেটা এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিরসন করা যেতে পারে।