সিংগাইরে সড়ক দখল করে বহুতল ভবন

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৫

একই ব্যক্তির বাড়িতে সরকারি নলকূপ, বঞ্চিত এলাকাবাসী

মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

উপজেলার ধল্লা আঠালিয়া গ্রামে সরকারি পাকা সড়ক দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। আঠালিয়া গ্রামের মো. বাবুল হোসেন নামের ঐ প্রভাবশালী মুন্সীগঞ্জে জনস্বাস্থ্য উপপ্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। এ ছাড়া  জানা গেছে , এলাকাবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাদ্দকৃত গভীর নলকূপও তার বাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে। যা ব্যবহূত হয় ব্যক্তিগতভাবে। গ্রামবাসী জানায়, বাবুল হোসেন সরকারি চাকরিজীবী হবার সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সড়ক দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এ ছাড়া  আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি গভীর নলকূপও তার বাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে। যেখান থেকে এলাকার কেউ পানি নিতে পারে না।

ধল্লা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, তাকে সময় দেওয়া হয়েছে সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। তিনি সময় চেয়েছেন। কিন্তু তার দেওয়া সময় পার হয়ে গেলেও রাস্তা ছাড়েননি। এদিকে এলজিইডির রাস্তা দখল করার বিষয়টি জানেন না বলে জানান উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুবাইত জামান। ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, এলজিইডির  সড়ক দখল করে বাড়ি নির্মাণ এবং সরকারি নলকূপ ব্যক্তিগতভাবে  ব্যবহারের বিষয়টি তার জানা নেই। নলকূপ বরাদ্দে তার স্বাক্ষর নেই।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপপ্রকৌশলী রিফাতুল ইসলাম বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিতরা যাতে সুপেয় পানি পেতে পারে সে জন্য তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারিভাবে এই নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বিত্তশালীরাও বাড়িতে নলকূপ বসাতে পারেন, যদি সেখান থেকে গ্রামবাসীর পানি নেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু বাবুল হোসেন যেটা করেছেন তা ঠিক করেননি।  অবশ্য বাবুল হোসেন বলেন, গাড়ি নিয়ে বাড়িতে উঠানামার ক্ষেত্রে অসুবিধে হয় বলে রাস্তা ব্যবহার করেছিলাম। কিন্তু এসিল্যান্ড অফিস থেকে লোক আসার পর ভেঙে দিয়েছি। এ ছাড়া পানির সমস্যার জন্য এমপিকে বলে নলকূপ নিয়েছি। তারের বেড়া থাকলেও গেট খোলা থাকে। এলাকার সবাই পানি নিতে পারে। অনেকেই আছেন গোসল থেকে শুরু করে সবই করতে চান। এই সুযোগ না পেয়ে তারা মিথ্যে অভিযোগ করেন।