বৈশাখী মেলা না বসায় দুশ্চিন্তায় মৃিশল্পীরা

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৯

করোনার সংক্রমণ

আবুল কালাম, ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

করোনার কারণে এবারও বৈশাখী মেলা বন্ধ থাকায় ফুলবাড়ীয়ার পুটিজানা ইউনিয়নের মৃিশল্পীরা দুশ্চিন্তায় আছেন। দেখা গেছে, ঘরে সারি সারি সাজানো রংহীন হাতি ঘোড়া শিল-পাটা আরো কত কি। বারান্দায় বসে পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে তাতে রং দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে পার্বতী রানীর (৬৫)। তিনি জানেন না করোনাকালে এবারও বৈশাখে মেলা বসছে না। বাড়ির বাইরে ৪০ বছরের চুলা/ পাঞ্জা কোদাল দিয়ে উপড়ে ফেলছে তার স্বামী ছত্রিশ চন্দ্র পাল (৭৫)। পরিবারটি বৈশাখের মেলায় গৃহস্থালির তৈজসপত্র, খেলনা বিক্রি করে সারা বছরের খরচ জুগিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এখন ছত্রিশ পাল বিপাকে। শুধু ছত্রিশ পাল নন, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার শিবগঞ্জ পালপাড়ার অনেক মৃিশল্পীরই অবস্থা এরকম। সরেজমিন শিবগঞ্জ পালপাড়া পরিদর্শনে দেখা গেছে, ঘরে ঘরে স্তূপ করা রংহীন হাতি, ঘোড়া, শিল-পাটা, আম, কাঁঠালসহ নানান ধরনের খেলনা, গৃহস্থালির তৈজসপত্র। মাটির স্তূপ উঠানে ছড়ানো ছিটানো। চাকাগুলোতে মাটি নেই। ছত্রিশ চন্দ্র পাল (৭৫) বলেন, ‘গতবার পহেলা বৈশাখ হয়নি করোনার কারণে। সরকার করোনার জন্য অনেক সহায়তা করেছে শুনেছি কিন্তু আমরা কিছুই পাইনি। এবারও নাকি করোনার কারণে পহেলা বৈশাখে মেলা বসছে না। আমরা খামু কী। কেউ তো আমাদের খোঁজ নেয় না।’ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন, ‘৪০ বছর ধরে ঐ চুলায় আগুন দিয়ে মাটি পুড়ছি। বাপদাদার স্মৃতিও জড়িত ঐ চুলা। আর পারছি না। তাই চুলাটি ভেঙে ফেলছি।’

গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, ‘আমরা বছরে একবার বৈশাখী মেলায় খেলনাসহ গৃহস্থালির নানান তৈজসপত্র বিক্রি করে যা আয় করি তা দিয়ে আমাদের সংসার কোনোমতে চলছিল। গতবার করোনার কারণে বৈশাখী মেলা হয় নাই। ভাবলাম এবার মনে হয় হবে। কিন্তু এবারও বৈশাখী মেলা হবে না। গতবারের মালামাল ঘরে পড়ে রয়েছে রং করা অবস্থায়। এবারও তৈরি করে রেখেছি।’ পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘মৃিশল্পীদের বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করা হয়েছে। এবারও তাদের সহযোগিতা করা হবে।’