বাজারদরের চেয়ে বেশিতে পেঁয়াজের দর নির্ধারণ

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩১

রাজধানীর খুচরা বাজারে যে দেশি পেঁয়াজ ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল সেই একই পেঁয়াজ এখন কিনতে হবে ৪০ টাকায়। কারণ প্রতি কেজি পেঁয়াজের এই দর গতকাল সোমবার নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। পেঁয়াজ ছাড়াও আরো পাঁচটি পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেই পণ্যগুলো হলো ছোলা, চিনি, ভোজ্য তেল, মসুর ডাল ও খেজুর। তবে এই পণ্যগুলোর যে খুচরা দর নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই দরে কোথাও তা বিক্রি হতে দেখা যায়নি। নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশিতে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। গতকাল পণ্যগুলোর দর বেঁধে দেওয়ার পর রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, কাওরান বাজার ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে পণ্যগুলোর বাজারদরের এ চিত্র পাওয়া যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে পণ্যের চাহিদা নিরূপণ করা হয়। এই চাহিদার বিপরীতে দেশের উত্পাদন, আমদানির পরিমাণ ও মূল্য বিবেচনা করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বেঁধে দেওয়া দরে কখনো পণ্য বিক্রি হয় না বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। ভোক্তারা বলেন, যদি নির্ধারিত দরে পণ্য বিক্রি না-ই হবে, তাহলে কেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়? যদিও বলা হচ্ছে আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতারোধ ও ক্রেতাসাধারণের সুবিধার্থে পণ্যগুলোর দর বেঁধে দিয়েছে সরকার।

গতকাল বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকা, ছোলা ৬৩ থেকে ৬৭ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল ৬৭ থেকে ৬৯ টাকা ও সরু দানার ডাল ৯৭ থেকে ১০৩ টাকায় বিক্রি হবে। প্রতি কেজি চিনির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ থেকে ৬৮ টাকা। এছাড়া সাধারণ মানের খেজুর প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ ও মধ্যম মানের খেজুর ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হবে। আর ভোজ্য তেল এক লিটারের বোতল ১৩৯ টাকা ও পাঁচ লিটারের বোতল ৬৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও এর আগে একই দরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোজ্য তেলের দর নির্ধারণ করে দেয়।

এদিকে গতকাল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি ছোলা ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল ৬৮ থেকে ৭০ টাকা ও সরু দানার ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকায়। সাধারণ মানের খেজুর ১২০ থেকে ১৬০ ও মধ্যম মানের খেজুর ২২০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ভোজ্য তেল এক লিটারের বোতল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ও পাঁচ লিটারের বোতল ৬৫০ থেকে ৬৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা যায়। এ হিসেবে ভোজ্য তেল বাদে আর সব পণ্যই নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে ঘটেছে উলটো ঘটনা। নির্ধারিত দরের চেয়ে দুই টাকা কমে ৩৮ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

কাওরান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, করোনার কারণে পেঁয়াজের সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম আরো বাড়বে। মোকাম থেকে তাদের দাম বাড়িয়ে বিক্রির জন্য বলা হয়েছে বলে জানান ঐ ব্যবসায়ী।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, রমজানে এক শ্রেণির অসত্ ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি করে। এই কারসাজি রোধ করতেই রমজানে যে পণ্যগুলো বেশি প্রয়োজনীয় সেগুলোর দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, রমজানে বাজার তদারকির জন্য শুধু রাজধানীতেই ২৮টি মনিটরিং দল কাজ করবে। কেউ বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।