বইমেলা শেষে প্রকাশকরা ক্ষুব্ধ, বিপর্যস্ত

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫০

বাংলা একাডেমির হিসাবে গত বছর বই বিক্রি হয়েছিল ৮২ কোটি টাকার। আর এ বছর বিক্রি এতই কম যে, বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে বিক্রির কোনো হিসাবই দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির হিসাবে এবার বই বিক্রি হয়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। গত বছর সব রেকর্ড ভেঙে এবার নতুন বই এসেছিল ৪ হাজার ৯১৯টি। আর এ বছর বই এসেছে ২ হাজার ৬৪০টি। এ হিসাবেই বোঝা যায় এবার বইমেলার সার্বিক অবস্থা।

বইমেলার বিক্রিতে প্রকাশকরা ক্ষুব্ধ, বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় তারা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। গতকাল মেলা মাঠে সাংবাদিক সম্মেলন করে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের এ দাবির কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহসভাপতি শ্যামলেন্দু পাল। এ সময় অন্যান্য প্রকাশকও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বইমেলায় প্রকাশকদের ক্ষতি পোষাতে ১০ কোটি ৪১৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমভাবে বণ্টন করা হোক। আর মেলায় অংশ নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রকাশকদের কাছ থেকে বিশেষ বাজেটে ১০০ কোটি টাকার বই কেনা হোক। সেই সঙ্গে পুস্তক প্রকাশকদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয় এ সাংবাদিক সম্মেলনে।

এবারের মেলায় বিক্রি এই দুরবস্থার জন্য বাংলা একাডেমির পরপর তিন বার মেলার সময়সূচি পরিবর্তনকেও দায়ী করা হয়।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় যেহেতু মেলায় বিক্রি কম হয়েছে আর প্রকাশকরাও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন, সে কারণে প্রকৃত তথ্যও পাওয়া যাবে না। তাই, আমরা এখনই বিক্রির হিসাব দিচ্ছি না। প্রকাশকদের কাছ থেকেও বিক্রির হিসাব নেওয়া হয়নি। এটা পরে দেওয়া হবে।

এদিকে, গতকাল শেষ দিনে মেলা শেষ হওয়ার আগেই অনেক প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান তাদের স্টল গুটিয়ে নিতে শুরু করে। মেলার ভগ্নদশার মধ্যে বই বিক্রি হয়েছে। মেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে পাঠকরা মেলা মাঠে, বইয়ের স্টলে স্টলে ভিড় জমিয়েছিলেন।

মেলা প্রসঙ্গে তরুণ লেখক শরীফুল হাসান বলেন, এবারের মেলা তো স্বাভাবিক ছিল না, করোনা মহামারির মধ্যে মেলার তো ছন্দপতন হয়েছেই। তবে, সিরিয়াস পাঠকরা মেলায় এসেছেন, মেলায় না এলেও তারা অনলাইনে বই সংগ্রহ করেছেন। মেলায় যেটা হয়, প্রচুর মানুসের ঢল আর বিক্রি সেটা এ বছর হয়নি। আশা করি, আগামী বছর করোনামুক্ত পৃথিবীতে সুন্দর মেলা আয়োজন করা সম্ভব হবে।

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২১

২০২১ সালে অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’-এ এক ইউনিটে সেরা স্টল নির্বাচিত হয়েছে ‘উড়কি’; দুই থেকে চার ইউনিটের স্টলে সেরা হয়েছে ‘সংবেদ’ আর সেরা প্যাভিলিয়ন নির্বাচিত হয়েছে ‘কথাপ্রকাশ’।

নতুন বই : গতকাল শেষ দিনেও মেলায় নতুন বই এসেছে ৬৪টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বই : গল্প-৬, উপন্যাস-৪, প্রবন্ধ-৮, কবিতা-২৯, ছড়া-৪, জীবনী-২, মুক্তিযুদ্ধ-২, নাটক-১, বঙ্গবন্ধু-৪, অন্যান্য ৬টি বই।