এদেশের গুণী সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী। প্রায় সব ঘরানার গানেই তার জনপ্রিয়তার জুড়ি নেই। জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী করোনাকালীন সংগীত ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা, নিজের সংগীত ভাবনাসহ নানা বিষয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন
এ এম রুবেল
বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই—
দীর্ঘ ৪ বছর পর নতুন একটি নাটকে অভিনয় করলাম। এছাড়া বেশকিছু নতুন গান তৈরি করেছি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য। কিন্তু যেদিন ছাড়াতে চাই সেদিনই কোনো না কোনো দুঃসংবাদ পাই। যে কারণে এবার বৈশাখ উপলক্ষেও কাজ করিনি। এবার একটা মন খারাপের বৈশাখ কাটবে।
সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতেও করোনার প্রভাব পড়েছে। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
করোনা তো আমাদের অনেক গুণী মানুষকে কেড়ে নিচ্ছে। সংগীতেরও অনেককে এরইমধ্যে হারিয়েছি। আমরা যারা গান, নাটক বা সিনেমা করে জীবন-জীবিকা চালাই তাদের উপার্জনের অন্য কোনো মাধ্যম নেই। শেষজীবনে এসেও কিন্তু কোনো ফান্ড নেই। তার ওপর করোনার কারণে কোনো কনসার্ট নেই। সব মিলিয়ে সংগীতের মানুষরা দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। অনেকে হয়তো ভয় নিয়েই কাজ করছেন। এছাড়া তো উপায়ও নেই তাদের।
গান বাণিজ্যিক মাধ্যমে পরিণত হচ্ছে। এখন ভিউ গুণে গান ও শিল্পীর মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
আয়ের জন্য ভালো কাজ নিয়ে ব্যবসা করতেই পারে। তবে শুধু ভিউ বাণিজ্যের জন্য মানহীন কাজ করা সত্যি খারাপ। আর ভিউ গুণে শিল্পী বা গানের মান বিচার করা যায় না। একটি খারাপ কন্টেন্টেরও অনেক ভিউ হয়। আবার দেখেও খারাপ হলে বাজে কমেন্ট করছে।
অনেকেই শিল্পীদের রেভিনিউ নিয়ে কথা বলছেন। এ ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
এটা অনেকটাই সত্যি কথা। এখন এমনও হচ্ছে যে আমার গান আমাকে না জানিয়ে গাইছে, ইউটিউবে প্রকাশ করছে। যেমন আমাকে না জানিয়ে সম্প্রতি গানবাংলা অন্য একজন শিল্পীকে দিয়ে আমার একটি গান করিয়েছে। এটা খুবই অন্যায় করেছে।
বর্তমানে প্রায় সবাই কোনো লেভেল কোম্পানি বা প্রযোজকের কাছে না গিয়ে নিজেরাই গান রিলিজ দিচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
এটা খুবই ভালো একটি দিক। কেউ কোনো জায়গায় আটকে গেলে বিকল্প মাধ্যম খোঁজে। এতে গানটি কম মানুষের কাছে পৌঁছায়।
আপনি অডিও ইন্ডাস্ট্রির সোনালি যুগ থেকে নিয়মিত কাজ করছেন। সেই জায়গা থেকে বর্তমান অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
সংগীত কোনদিকে যাচ্ছে সেটা আসলে বলা কঠিন। যখন ক্যাসেট থেকে সিডি এলো তখন ভাবলাম অডিও শেষ। সেসময় নোংরামি দেখে মানুষ বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়। অনেকে গান জানে না, অথচ গান বের করছে! এখন তো মানুষ আরো বেশি দ্বিধান্বিত। হেডলাইন দেখে ক্লিক দিয়ে হতাশ হচ্ছে। তবে আমার মনে হয় শিগগিরই বিরক্ত হয়েই তারা ভালো গানকে বেছে নেবে।
