বিশেষ প্রতিনিধি
রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, আজ বুধবার থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ থাকবে। তবে চলবে পণ্যবাহী ট্রেন। এর পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য ও পার্সেল পরিবহনে চার জোড়া নতুন ট্রেন চলবে। গতকাল মঙ্গলবার রেলভবনে লকডাউন ও করোনাকালীন পণ্যবাহী-পার্সেল ট্রেন পরিচালনা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট, সিলেট-ঢাকা, চট্টগ্রাম-সরিষাবাড়ী, সরিষাবাড়ী-চট্টগ্রাম, খুলনা-চিলহাটি, চিলহাটি-খুলনা, পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম-ঢাকা, ঢাকা-পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রুটে প্রতিদিন ট্রেন চলবে। আজ থেকে এ ট্রেনগুলো চলাচল করবে। প্রাথমিকভাবে লকডাউনের জন্য এগুলো চালু করা হয়েছে। সাড়া পেলে পরে এ ট্রেন চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সরিষাবাড়ী ও চট্টগ্রাম-সিলেটের মধ্যে পরিবাহিত পার্সেল মালামাল ভৈরববাজার ও আখাউড়া স্টেশন লাগেজ ভ্যান সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে গন্তব্যে পাঠানো হবে। আর খুলনা-ঢাকা রুটের মালামাল পরিবাহিত লাগেজ ভ্যান ঈশ্বরদী স্টেশনে বিয়োজন হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ট্রেনে সংযোজন-বিয়োজন করা হবে। তিনি আরো বলেন, এ ট্রেনে কৃষিজাত পণ্য যেমন, শাকসবজি, দেশীয় ফলমূলসহ অন্যান্য কৃষি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মূল ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।
রুটভিত্তিক ভাড়ার বিষয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট রুটের দূরত্ব ৩১৯ কিলোমিটারের জন্য কেজিপ্রতি এক টাকা ১১ পয়সা, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৩৪৬ কিলোমিটারের জন্য কেজিপ্রতি এক টাকা ১৭ পয়সা, চট্টগ্রাম-সরিষাবাড়ী ৪৬৯ কিলোমিটারের জন্য এক টাকা ৩৫ পয়সা, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে ৩৯০ কিলোমিটারের জন্য এক টাকা ৩০ পয়সা, খুলনা-চিলাহাটি রুটে ৪৯০ কিলোমিটারের জন্য এক টাকা ৩৬ পয়সা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল-ঢাকা রুটে ৫৯৩ কিলোমিটারের জন্য এক টাকা ৫৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন—রেল সচিব সেলিম রেজা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলী প্রমুখ।
