হেফাজত নেতাদের ধরপাকড়

১৪ থানায় বালুর বাংকারে মেশিনগান নিয়ে পাহারা

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০০:১৩

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের গ্রেফতার অভিযান শুরুর পর থেকেই কঠোর নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে পুলিশের থানাগুলোকে। আগেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুইটি থানার সামনে বালুর বাংকার বানিয়ে মেশিনগান নিয়ে পাহারা বসিয়েছিল পুলিশ। গতকাল সোমবার হেফাজতের শীর্ষ নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী গ্রেফতার হওয়ার পর রাজধানীর দুটি বিভাগের ১৪টি থানার সামনে বালুর বাংকার বানিয়ে মেশিনগান নিয়ে পাহারা বসানো হয়েছে। ধরপাকড়ের পরিপ্রেক্ষিতে যে কোনো সময় থানায় হামলা করতে পারে হেফাজত নেতাকর্মীরা, এমন আশঙ্কায় এই ধরনের পাহারা। এসব পাহারায় লাইট মেশিনগান (এলএমজি) ও চাইনিজ রাইফেল নিয়ে পুলিশ সদস্যরা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা থানার সামনে বাংকারে পাহারা দিচ্ছেন।  

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও সিলেট ও নারায়ণগঞ্জেও থানার সামনে বাংকার বানিয়ে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছিল। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেন, মতিঝিল বিভাগের সবকয়টি থানার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মতিঝিল, সবুজবাগ, খিলগাঁও, পল্টন মডেল, রামপুরা, মুগদা ও শাজাহানপুর থানার সামনে নিরাপত্তা চৌকি তৈরি করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে থানার বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েও পুলিশ সদস্যদের দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে থানায় যেন কেউ আক্রমণ করতে না পারে, সে কারণেই এই বাড়তি নিরাপত্তা।

পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি থানারও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। মূলত মাদ্রাসা-অধ্যুষিত এলাকা এবং তুলনামূলক জরাজীর্ণ থানাগুলোর নিরাপত্তা বেশি দেওয়া হচ্ছে। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগেও এমন চিত্র দেখা গেছে। পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ জানিয়েছেন, ওয়ারী বিভাগের সব থানায় নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী থানা, ডেমরা থানা, শ্যামপুর থানা, যাত্রাবাড়ী থানা, গেন্ডারিয়া থানা ও কদমতলী থানায় এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ হেফাজতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালায় হরতাল সমর্থনকারীরা। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও ঢাকায় হামলা-ভাঙচুর চালায়। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় থানা, ভূমি অফিস, সড়কে থাকা গাড়ি ও বসতবাড়ি। এরপরই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সবগুলো থানার নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার থানার আশপাশে সবসময় একাধিক দলের টহল ও ঢাকার সব থানার নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম।