বরিশালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ হাসপাতাল চত্বরে চিকিত্সা

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৬

বরিশালে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগীরা ভিড় করছেন ডায়রিয়া চিকিত্সার নির্ভরযোগ্য বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডের বেড, মেঝে, বারান্দা ছাড়িয়ে রোগীদের ঠাঁই হয়েছে মূল ভবনের বাইরে খোলা স্থানে, এমনকি গাছতলায়ও। ডায়রিয়া রোগীর অতিপ্রয়োজনীয় আইভি স্যালাইন এবং ওষুধসহ অন্যান্য সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। যদিও সাধ্যমতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা এবং রোগীদের স্যালাইন-ওষুধ দেওয়ার কথা বলেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে পর্যাপ্ত জায়গা এবং লোকবল স্বল্পতার কারণে রোগীদের প্রত্যাশা পূরণ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আরপিও ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল। মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পানির মাধ্যমে রোটা ভাইরাস শিশুদের সংক্রমিত করে। আর বড়দের সংক্রমিত করে পানিবাহিত সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া। গরম পেলে ব্যাকটেরিয়া বেশি ছড়িয়ে পড়ে পানির মাধ্যমে। নোংরা থাকা, ঠিকভাবে সাবান দিয়ে হাত না ধোয়া এবং পানি ফুটিয়ে পান না করার কারণে গরমের এই সময়ে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ডায়রিয়া ওয়ার্ড ছাড়িয়ে রোগীর স্থান হয়েছে হাসপাতালের বারান্দায়, মূল ভবনের বাইরে খোলা স্থানে, এমনকি হাসপাতাল চত্বরের গাছতলায়। গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে তাদের শরীরে। এছাড়া রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় মূল ভবনের বাইরে বাঁশ দিয়ে শেড করা হচ্ছে রোগীদের চিকিত্সার জন্য।

গাছতলায় এবং মূল ভবনের বাইরে খোলা আকাশের নিচে থাকা রোগীরা জানান, হাসপাতালে জায়গা না পাওয়ায় বাইরে অবস্থান নিয়েছেন তারা। কিন্তু তাদের দেওয়া হয়নি চাদর-বালিশ কিছুই। চিকিত্সাধীন রোগী আলাউদ্দীন জানান, তিনি সোমবার রাতে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখানে কোনো চিকিত্সা নেই। দেওয়া হয় না আইভি স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ। স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হয় বাইরে থেকে স্যালাইনসহ ওষুধ আনার জন্য। ওয়ার্ড এবং ওয়ার্ডের বাইরে সর্বত্র নোংরা পরিবেশ। জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নার্সিং ইনচার্জ আয়শা আক্তার জানান, সরকারিভাবে যে ওষুধ এবং স্যালাইন বরাদ্দ আছে সেগুলো রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। লোকবল স্বল্পতা থাকলেও সাধ্যমতো ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছেন তারা।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, হাসপাতালে সরকার অনুমোদিত বেডের সংখ্যা চারটি হলেও তা বৃদ্ধি করে ১৪ শয্যার করা হয়েছে। কিন্তু রোগী বৃদ্ধি পেয়ে সেখানে চিকিত্সাধীন রয়েছেন ৬০ জন। তবে লকডাউনসহ নানান কারণে গতকাল মঙ্গলবার থেকে রোগী কমতে শুরু করেছে। গতকাল ভর্তি হয়েছে ২৪ জন। তিনি জানান, মার্চ মাসে এই হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন ৭৫১ জন ডায়রিয়া রোগী। চলতি এপ্রিলে গতকাল পর্যন্ত চিকিত্সা নিয়েছেন ৫৫৫ জন রোগী।