বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলা গানের সুর করেছেন অস্কারজয়ী এ আর রহমান, তিনি গেয়েছেন সেই গান। এর আগে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এ আর রহমানের সুর করা হিন্দি গান বাংলাদেশের দর্শকরা শুনেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ গানটি উপস্থাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে করা গানটি উপস্থাপনের সময় অনুষ্ঠান উপভোগ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রমুখরা। এ গানের অনন্য সুর সংযোজন আর কণ্ঠ দিয়েছিলেন এ আর রহমান; যা বাংলাদেশের মানুষের হূদয় রাঙিয়েছে। কিন্তু চমকের এখানেই শেষ নয়, এ আর রহমানের সুর ও কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে খুব শিগিগরই আসছে নতুুন গান ‘জয় বাংলাদেশ’। সেটি হবে বাংলা গান। এ আর রহমানের হাত ধরে বাংলা গান আন্তর্জাতিকতার স্পর্শ পাচ্ছে, পরিচিতি পাচ্ছে। আর গর্বের বিষয় হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলা ও হিন্দি এ দুটি গানই লিখেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় গীতিকার জুলফিকার রাসেল। গানের প্রথম কয়েকটি লাইন এরকম—‘পাহাড় এসে সূর্য এসে আবার দেখে নিক
মুজিবের সেই তর্জনিটাই আবার দেখায় দিক।’
‘আমি বিস্ময়ে অভিভূত। আবেগের তুঙ্গে অবস্থান করছিলাম’ — বলছিলেন জুলফিকার রাসেল। ইত্তেফাককে এ আর রহমানের সঙ্গে তার কাজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, আমার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা এটা। উপলক্ষ্যটার কথা একবার ভাবুন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান আর কাজ করতে হবে অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের সঙ্গে। পেশাদারি চ্যালেঞ্জের কথা বাদ দিলেও একজন গীতিকার হিসেবে এই মাপের কাজ করা এবং এমন বিশ্বমানের সুরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাটাও খুব সম্মানের। আমি খুব যত্ন নিয়ে কাজটি করেছি। আর এ আর রহমানের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি।
তিনি বলেন, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আমার কথা হয় এ আর রহমান স্যারের সঙ্গে। তিনি খুব সহজভাবে আলাপ করেন। আমার কেমন গান পছন্দ, কি গান করেছি এসব জানতে চান। হিন্দি গানটা নিয়ে তেমন প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু বাংলা গান নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেন। কারণ এ দুটি গান একবারেই আলাদা। আমি বাংলা গানটি তাকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে পাঠাই। এরপর সে মাসেরই ২২ তারিখে আমি মুম্বাই যাই। সেখানেও আমাদের দীর্ঘসময় আলাপ হয়। এ সময় এ আর রহমান জানান, তিনি চেন্নাইয়ে তার গানের রেকর্ড করবেন। যখন ডাকবেন তখন আমাকে সেখানে যেতে হবে। সেদিনই তিনি বাংলা গানের জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারিতে চেন্নাই যেতে বলেন। সেখানেই প্রথম বাংলা গানের সুর সংযোজন ও রেকর্ড করেন। এ সময় তার সঙ্গে অনেক কথা হয়। আমি সেই গানে ‘ডামি ভয়েজ’ শুনেই অভিভূত হয়ে পড়ি। এই গান দুটি রেকর্ড করার সময় তিনি ‘জয় বাংলা’ নিয়ে আর কী কী গান হয়েছে জানতে চান। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অনেক আলোচনা করেন। একটি গানের সুর করার আগে তার যে প্রস্তুতি এটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বড় মাপের শিল্পীদের কাজের ধারা একেবারেই অন্যরকম। সেটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাই এ সময়। এরপর মার্চের প্রথম সপ্তাহে তিনি হিন্দি গানের সুর সংযোজন ও রেকর্ড করেন। সে সময়েও আমি চেন্নাই যাই।
জুলফিকার রাসেল বলেন, প্রথমে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি আয়োজনে পরিবেশনের জন্য এই গানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জুলফিকার রাসেলের লেখা হিন্দি ও বাংলা গানে সুর সংযোজন আর কণ্ঠ দেবেন এ আর রহমান—পরিকল্পনা ছিল এমনটাই। সে লক্ষ্য নিয়েও সব কিছু এগোচ্ছিল। গান রেকর্ড হওয়ার পর গত বছর লকডাউন শুরু হয়ে গেলে সব অনুষ্ঠানই স্থগিত হয়ে যায়। তখন খারাপ লাগলেও যেভাবে দুদেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সামনে গানটি পরিবেশিত হলো—সেটা আরো বেশি আনন্দের। এখন অপেক্ষা করছি বাংলা গানটির জন্য। তিনি জানান, এ দুটি গানের জন্য মূল কৃতিত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। আর ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আর প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তা না হলে এত বড় কাজ এত সহজে করা সম্ভব হতো না।
