২০ বছরেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচার

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৯

বছর ঘুরে আবার এলো পহেলা বৈশাখ। দুই দশক আগে এই দিনে রমনা বটমূলে চলছিল বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে বোমা হামলা করেছিল হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সদস্যরা। ঐ হামলার ঘটনায় হত্যা মামলার বিচারের একটি ধাপ শেষ হয়েছে। এতে পরিকল্পনা ও হামলাকারী আট জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত। এখন সেই জঙ্গিদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল সাত বছর ধরে হাইকোর্টে বিচারাধীন। চলতি বছরের ৩০ মে এই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানির জন্য হাইকোর্টে দিন ধার্য রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাককে বলেন, করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভুত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে এই মামলার শুনানির ভবিষ্যত্। মে মাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চ বসলে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি শুরু হবে।

এদিকে একই ঘটনায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার গত দুই দশকেও শেষ হয়নি। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বারবার সমন পাওয়ার পরেও সাক্ষী গরহাজিরার কারণে মামলার বিচার বিলম্বিত হচ্ছে বলে মনে করেন আইনজীবীরা। তবে ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ ভূইয়া ইত্তেফাককে বলেন, গত ৫ এপ্রিল মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আদালতের স্বাভাবিক বিচার কাজ বন্ধ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন দিন ধার্য হবে, তখন সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান আসামির দণ্ড কার্যকর:

এই মামলার প্রধান আসামি হুজির শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সরকার। সিলেটে তত্কালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৮ সালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ঘটনার পূর্বাপর :

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১০ ব্যক্তি নিহত হন। ঐ ঘটনায় রমনা থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ। মামলা দায়েরের এক যুগ পর হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন মুফতি আব্দুল হান্নানসহ আট জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। যাবজ্জীবন দণ্ড দেয় ছয় জনকে। মৃত্যুদণ্ডের এই রায় অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা খালাস চেয়ে আপিল করেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পেপারবুক প্রস্তুত হয়। এরপরই মামলাটি শুনানির জন্য বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে পাঠান তত্কালীন প্রধান বিচারপতি। ঐ বেঞ্চে পেপারবুক পড়া শেষে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষ প্রাথমিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। কিন্তু শুনানি শেষের পূর্বেই বেঞ্চের এখতিয়ারে পরিবর্তন আসে। এরপর শুনানির জন্য বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চে পাঠানো হয়। ঐ বেঞ্চের কার্যতালিকার ১৭ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত ছিল মামলাটি। কিন্তু পরবর্তী সময় ঐ বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তন হওয়ায় মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয় বিচারপতি কৃঞ্চা দেবনাথ ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের বেঞ্চে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চে হত্যা মামলাটির দ্বিতীয় ধাপের বিচার সম্পন্ন হবে।