হেফাজতের সহপ্রচার সম্পাদক গ্রেফতার, আরেক নেতা রিমান্ডে

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০০:৩৫

 

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক মুফতি শরীফউল্য­াহকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ বিভাগ (ডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার আজহারুল ইসলাম মুকুল। অপরদিকে সোমবার রাতে কেরানীগঞ্জে হেফাজত নেতা মামুনুল হক পরিচালিত তারবিয়াতুল উম্মাহ মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহঅর্থ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর কমিটির সহসভাপতি মুফতি ইলিয়াস হামিদীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্যের ভিত্তিতে শরীফউল্যাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৬ মে যাত্রাবাড়ী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা রয়েছে। ঐ মামলায় তিনি এজাহারের ৩ নম্বর আসামি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুফতি শরীফউল্য­াহ হেফাজতের ঢাকা মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ২৫ ও ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম মসজিদে হেফাজতের সহিংসতার সঙ্গেও তার যোগসূত্র রয়েছে। তাকে আজ বুধবার আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে ডিবি সূত্র জানায়।

অন্যদিকে সোমবার রাতে গ্রেফতার হওয়া মুফতি ইলিয়াসসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় র্যাব-২-এর ওয়ারেন্ট অফিসার জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় নাশকতার পরিকল্পনা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানো, ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। মামলায় পলাতক অপর আসামিরা হলেন—শরীফ হোসাইন (৩৫), জাকির হোসেন (২৯), শফিকুল ইসলাম (২৮), ইউসুফ (৫২), ফজলুর রহমান (৪০), হেলেন (৫২), মামুন (৪০) ও ইউনুস (৫৫)।

পুলিশ সূত্র জানায়, শাপলা চত্বর ও পরবর্তী সময়ে সারা দেশে হেফাজত ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় মোট ৮৩টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় ৮৪ হাজার ৯৭৬ জনকে আসামি করা হয়। এসব মামলায় ঐ সময় হেফাজতের ৮৮ জন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করা হলেও পরবর্তীতে সবাই জামিনে মুক্তি পান। ৮৩টি মামলার মধ্যে ২২ মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। বাকি মামলাগুলো তদন্ত চলছে।