লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৮

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোগীর নাম মো. বাবুল হোসেন। তিনি পৌর শহরের ১নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর এলাকার কালামিয়ার ছেলে।

ঘটনার সময় সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক (কনসালটেন্ট কার্ডিওলোজি) ডা. ভবানী প্রসাদ রায় হাসপাতালে ছিলেন না। তিনি প্রাইভেট ক্লিনিকে ব্যস্ত ছিলেন- নিহত রোগীর স্বজনদের এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য রোগীরাও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী প্রেরণ করার অভিযোগ করেন।

নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বাবুল হোসেন তার বুকে ব্যাথা অনুভব করেন। তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃ পক্ষ যথাসময়ে চিকিৎসা না দিয়ে সময়ক্ষেপন করেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। এ সময় মেডিসিন ডা. সালাহ উদ্দিনকে দেখানোর পর তিনি ভবানী প্রসাদের কাছে প্রেরণ করেন। ভবানী প্রসাদের চেম্বারে গিয়ে তাকে পাননি রোগীর স্বজনরা। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করলে একেকবার একেকজন ফোনটি রিসিভ করে নোয়াখালী ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান। পরে সিভিল সার্জনকে ফোন দেওয়ার কিছুক্ষন পর ওই চিকিৎসক হাসপাতালে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে বাবুল হোসেন মারা গেছেন।

চিকিৎসকের অবহেলায় বাবুল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে বলে গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। খবর পেয়ে শহর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ভবানী প্রসাদ রায়ের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ব্যাক্তিগত কাজে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য হাসপাতালের বাইরে ছিলাম। রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় মৃত্যু হয়েছে।’

এদিকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অন্য সেবা গ্রহিতারাও অভিযোগ করেন। তারা বলেন ‘তিনি তার প্রাইভেট ক্লিনিকে (শুভ হার্ট, মেডিসিন এন্ড কনসালটেশন সেন্টার) যেতে রোগীদের প্রভাবিত করেন।’

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে তার প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় তিনি ব্যস্ত রয়েছেন রোগী দেখার কাজে। ক্যামরা দেখে তিনি পালাতে থাকেন। এ সময় সরকারি হাসপাতালে না থেকে প্রাইভেট ক্লিনিকে কি করছেন জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে কিছু না বলে বের হয়ে যান তিনি।

আরও পড়ুনঃ কোম্পানীগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেফতার ১

এদিকে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর বিষয়টি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোন মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়,  ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত চিকিৎসককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।’

ইত্তেফাক/নূহু