করোনাভাইরাসের টিকা জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজ নেওয়ার পর রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কয়েকটি ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে গণটিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এই টিকা নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত মোট ৬ জন রক্ত জমাট বাঁধার শিকার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জানিয়েছে, জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা নেওয়ার পর এ পর্যন্ত মোট ছয়জনের রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তরা সবাই নারী এবং তাদের বয়স আঠারো থেকে আটচল্লিশের মধ্যে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের করোনা টিকার অনুমোদন দেয় এফডিএ। এর আগে ফাইজার এবং মডার্নার করোনা টিকার অনুমোদন দিয়েছিল দেশটি।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জুয়েলি এমখিজ জনসনের টিকা স্থগিতের বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘রক্ত জমাট বাঁধার কারণ সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়ার আগ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় এই টিকার ব্যবহার স্থগিত থাকবে।’
এদিকে জনসন অ্যান্ড জনসন কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে টিকার কোনো সম্পর্ক নেই। এক বিবৃতিতে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা উদ্ভুত এই সমস্যাটির বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট ৬৮ লাখ মানুষ আমাদের টিকা নিয়েছেন, তাদের মধ্যে আক্রান্ত হলেন ছয়জন।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি হলেও জনসন অ্যান্ড জনসনের করোনা টিকা তৈরির কাজটি হয়েছে কোম্পানিটির বেলজিয়াম শাখায়। অন্যান্য করোনা টিকার তুলনায় এর সুবিধাজনক দিক দুটি— এটি এক ডোজের করোনা টিকা এবং সাধারণ রেফ্রিজারেটরে এই টিকা সংরক্ষণ করা সম্ভব।
ইত্তেফাক/টিআর
