শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের নিচতলার রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা বুধবার ভেঙে পড়েছে। এ ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাসপাতালে কর্মরত চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে। পলেস্তারা খসে পড়ার পরও ঝুঁকি নিয়েই রোগীদের ঐ কক্ষটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট আক্তার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে কক্ষের তালা খুলে দেখি ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে আছে। এক্সরে মেশিনের ওপর পলেস্তারার অংশ পড়ে আছে। বিকল্প কক্ষ না থাকায় এখনো ঐ কক্ষটিই রোগীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের ঐ বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগটি নিচতলার দুটি কক্ষে অবস্থিত। একটি কক্ষের ছাদের অধিকাংশ অংশের পলেস্তারা খসে পড়েছে। আর কিছু অংশ ঝুলে আছে। ঐ কক্ষের মধ্যেই রোগীদের সেবা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মুনীর আহমদ খান বলেন, ১৯৮৫ সালে হাসাতালের একটি অংশ একতলা ও একটি অংশ দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে অতিরিক্ত ১৬টি পিলার স্থাপন করে হাসপাতালটি তৃতীয় তলা পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। বর্তমানে হাসপাতাল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত পাঁচ বছরে পাঁচ দফা বিভিন্ন ফ্লোরের ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়েছে। ২০১৮ সালে নিচতলার করিডোরে ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ে তখন তিন ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। আবারও রেডিওলজি বিভাগের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। গত বছর আমার কক্ষের পলেস্তারাও খসে পড়েছিল। তখন অল্পের জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা ভবনটি পরীক্ষা করেছেন। এখন ভবনের নিচতলা সংস্কার না করে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। সদর হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগের ফার্মাসিস্ট নাসির উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ছে। অনেক স্থানে ছাদের পলেস্তারাতে ফাটল ধরে রয়েছে। অনেক কক্ষ দিয়ে পানি পড়ে। এমন অবস্থায় কয়েক দফা ছাদের পলেস্তার ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা আতঙ্ক নিয়ে অফিস করছি। আমার ফার্মেসি বিভাগের কক্ষের ছাদ ও ভিমে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় বহিঃবিভাগ, জরুরি বিভাগ, তত্ত্বাবধায়ক, আরএমওর কক্ষ, এক্সরে রুম, ল্যাবরেটরি ছাড়াও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ করার কক্ষ রয়েছে। ছয়টি কক্ষ এই মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ। পুনরায় ছাদের অংশ ধসে পড়ায় আমরা আতঙ্কে আছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনে কাজ করা সম্ভব নয়। শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন আবদুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ভবনটি পুরোনো। তাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার করা হবে। সেজন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। হাসপাতাল প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে নিরাপদে সবাই কাজ করতে পারেন।
