চার দিন পানিশূন্য মধুবাজার

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৫

দুর্ভোগে এলাকাবাসী, ওয়াসার আশ্বাস শিগিগরই সমাধান

নিলয় মামুন

তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে পশ্চিম ধানমন্ডির মধুবাজার এলাকায়। রোজার দিনে পানি না পেয়ে ভোগান্তিতে দিন পার করছেন এ এলাকার মানুষ। টানা এক মাস ধরে পানির সংকট থাকলেও গত চার দিনে এক ফোঁটা পানিও পায়নি বলে জানায় এলাকাবাসী। যার কারণে পানি কিনে কোনো রকম দৈনন্দিন কাজ সারতে হচ্ছে তাদের। পানির সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার ওয়াসাকে অবহিত করলেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পশ্চিম ধানমন্ডির মধুবাজার এলাকায় রায়েরবাজার টালি অফিসের পাম্প থেকে পানি আসে। অথচ সে পাম্পটি প্রায় এক মাস যাবত্ নষ্ট। যার কারণে এ এলাকায় পানির সংকট তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বাংলা সড়কের পানির পাম্পটিও দীর্ঘদিন যাবত নষ্ট বলে জানা যায়। মধুবাজার এলাকায় আলাদা কোনো পাম্প না থাকায় আশপাশের পাম্প থেকে ঐ এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়। পাম্পগুলো নষ্ট থাকায় এখন তাদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় দেড় থেকে ২০০ বাড়িতে এমন পানির সংকট বলে জানায় এলাকাবাসী।

মধুবাজার এলাকার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ রতন বলেন, ‘পানি কিনে এখন ব্যবহার করছি। রাত ২টা পর্যন্ত পানি কেনার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। যখন পানি পাই তখন আমরা গোসলসহ অন্যান্য কাজ সারি। এভাবে পানি কিনে কয়দিন চলা যায়? এই রোজার দিনে এক ফোঁটা পানিও লাইনে পাই না। গত কিছুদিন একবেলা পানি আসলেও এখন একেবারেই পানি আসছে না। ওয়াসা এ ব্যাপারে কোনো দায়িত্বশীল ভূমিকাই রাখছে না। ’

একই এলাকার বাসিন্দা মোক্তার আহমেদ ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা পানির সমস্যায় কীভাবে দিন কাটাচ্ছি। এটা আসলে বলে বুঝানো যাবে না। রোজার দিনে আমাদের এমনিতেই পানির চাহিদা বেড়ে যায়। সেখানে একবারেই পানি আসছে না। প্রায় এক মাসের ওপরে এ পানির সমস্যা’।

বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন পর পর পানির সমস্যা দেখা দিলেও ঢাকা ওয়াসার দাবি, রাজধানীতে এখন পানির কোনো সংকট নেই। বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ১৫ কোটি লিটার পানি বেশি উত্পাদন করা হচ্ছে। ওয়াসার দৈনিক পানির উত্পাদন সক্ষমতা ২৬০ কোটি লিটার। ঢাকা শহরে শীত-বর্ষা অনুযায়ী ২১০ থেকে ২৪৫ কোটি লিটার পর্যন্ত চাহিদা থাকে। তবে কোথাও পানি সংকট হলে বা এমন সমস্যার তথ্য পেলে তারা তা তত্ক্ষণাত্ সমাধান করছেন। কিন্তু রাজধানীর এই এলাকায় তীব্র পানির সংকট থাকলেও ঢাকা ওয়াসা মোডস জোন ৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এরশাদুল হক বললেন ভিন্ন কথা। তীব্র পানির সংকটের বিষয়ে তাকে অবহিত করলে তিনি বলেন, পানির সংকট আছে এ এলাকায় এটি সত্য। কিন্তু সেটি তীব্র নয়। এ সমস্যা কবে শেষ হবে ? এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। খুব শিগিগরই এ সমস্যার সমাধান হবে। ’