৬৩ শতাংশ মানুষ ব্রিটিশ রাজতন্ত্রকে সমর্থন করে

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৬

প্রিন্স ফিলিপ মারা যাওয়ার পর পৃথিবীর মানুষ শোক প্রকাশ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে সার্বিকভাবে রাজপরিবারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন অনেকে। প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে শোকাহত ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি বহু মানুষের সহানুভূতি থাকলেও ব্রিটেনের সব মানুষ কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজতন্ত্রের পক্ষে নয়। খবর বিবিসির

গত মাসে জরিপ সংস্থা ইউগভ একটি জরিপ চালিয়ে দেখেছে, ব্রিটেনের ৬৩ শতাংশ মানুষ চায়, ভবিষ্যতেও যেন রাজতন্ত্র অব্যাহত থাকে। কিন্তু প্রতি চার জনে এক জন বলেছেন, তারা একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান চান। এই জরিপে প্রতি ১০ জনে এক জন এ বিষয়ে কোনো পক্ষেই মতামত দেননি। ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বয়স ৯৪ বছর। গত প্রায় এক হাজার বছর ধরে কোনো না কোনোভাবে ব্রিটেনে তাদের শাসন চালু আছে। মাঝখানে একবারই মাত্র এতে ছেদ ঘটেছিল, সপ্তদশ শতকে ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধের পাঁচ বছর।

‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আমাদের আর রাজতন্ত্রের দরকার নেই। আমি বুঝতে পারি না এটা রেখে লাভটা কী। এটা আসলে ভিন্ন একটা সময় আর উপনিবেশবাদের একটা ঘোর ছাড়া আর কিছু নয়’, বলছেন ডার্বির বাসিন্দা কার্সটেন জনসন যিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সরকার চালাতে আমাদের নির্বাচিত লোকজন আছে, কাজেই আমি তো বুঝতে পারি না আমাদের রাজতন্ত্র কেন দরকার। তার মতে, কাগজে-কলমে রানিকে সবকিছু সই করতে হয়, কিন্তু আসলে তিনি তো কেবল আলংকারিক প্রধান। আর তাকে পোষার খরচটাও তো কম নয়। ২০২০ সাল রাজপরিবারের পেছনে ব্রিটেনের করদাতাদের সাড়ে ৯ কোটি ডলার খরচ হয়েছে, রাজপরিবারের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছে এই তথ্য। এটি এ যাবত্কালের সর্বোচ্চ ব্যয়।

কার্সটেন বলেন, রানি এলিজাবেথ অনেক দিন রাজত্ব করেছেন এবং তিনি বেশ মর্যাদার সঙ্গেই কাজটা করেছেন। তাকে একজন চমত্কার মানুষ বলেই মনে হয়। কিন্তু আমি এখন পর্যটক আকর্ষণ ছাড়া রাজতন্ত্রের আর কোনো প্রয়োজন দেখতে পাই না। আর যে পর্যটকরা বাকিংহাম প্রাসাদ দেখতে চান, রাজতন্ত্র না থাকলেও তারা সেটা দেখতে যেতে পারবেন।

রানি এবং তার নিজের পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যকে বলা হয় ‘ওয়ার্কিং রয়্যালস’ অর্থাত্ তারা প্রত্যেকেই কাজ করেন। যুক্তরাজ্যে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা বছরে দুই হাজারের বেশি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তারা নানা ধরনের অনুষ্ঠান এবং দাতব্য কাজের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য শক্তিশালী করা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখায় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হয়।

‘আমার দৃষ্টিতে রাজপরিবার যেন খুবই সুবিধাভোগী কিছু আমলা, যারা জন্মসূত্রেই তাদের কাজটা পেয়ে গেছেন এবং যাদের সেই পদ থেকে সরানো যাবে না,’ বলছেন স্যামি নাইট যার জন্ম কানাডায়, কিন্তু স্যামি এখন ব্রিটিশ নাগরিক। তার বিশ্বাস, ভবিষ্যতের যুক্তরাজ্য বা কমনওয়েলথে রাজতন্ত্রের স্থান নেই। স্যামির মতে, ‘রানি মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজতন্ত্রের মৃত্যু ঘটবে। রাজতন্ত্রের কী হলো সেটা নিয়ে আমি ভাবি না, তবে আমি মনে করি ব্যক্তিগতভাবে রানি একজন অসাধারণ মানুষ। রানি এবং ডিউক অব এডিনবারা যে কাজ করেছেন, আমি তার প্রশংসা করি। তারা অসাধারণ জীবন কাটিয়েছেন। আমার মনে হয় তাদের বয়স সত্ত্বেও জনসেবায় তারা অসাধারণ আত্মত্যাগ করেছেন। কিন্তু রাজপরিবারের তরুণ সদস্যদের আমি মোটেই পছন্দ করি না। ব্রিটেনে এখন একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান নিয়োগের সময় এসেছে’।

রাজপরিবারের ব্যাপারে চালানো জরিপটির তথ্য বয়সভেদে ভাগ করা হলে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে একটা বিরাট ফারাক আছে। যাদের বয়স ১৮ হতে ২৪, তাদের মধ্যে রাজতন্ত্রের পক্ষে সমর্থন সবচেয়ে কম, আবার যাদের বয়স ৬৫ বা তার বেশি, তাদের একটা বিরাট অংশই রাজপরিবারকে টিকিয়ে রাখার পক্ষে। ব্রিটেনের বিভিন্ন অংশের মধ্যেও রাজপরিবারের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের তারতম্য দেখা যাচ্ছে এই জরিপে। স্কটল্যান্ডের মাত্র অর্ধেক মানুষ রাজতন্ত্রের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। ব্রিটেনের কোনো একটি অঞ্চলে রাজপরিবারের ব্যাপারে এত কম সমর্থন আর দেখা যায়নি।