কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটি আন্তঃব্যাংক লেনদেন বন্ধ

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২৩:০৬

বাংলাদেশ ব্যাংকে আইটি বিপর্যয়ের কারণে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে লেনদেন বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেক্টরের আর্থিক খাতে আন্তঃ ব্যাংক চেক লেনদেনও বন্ধ রয়েছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আপাতত চেক নিষ্পত্তি বন্ধ আছে। আগামী রবিবার নাগাদ ঠিক হবে। তিনি জানান, আন্তঃ ব্যাংক চেক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে এখন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, গত ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুটি ডেটা সেন্টারের মধ্যে সংযোগকারী ফাইবার অপটিক্যাল কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সার্ভার ডাউন হয়ে গেছে। মাইক্রোসফট ও ভিএমওয়্যার প্রযুক্তি টিম সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। এ দুটি সার্ভিসের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়ে থাকে।

আন্তঃ ব্যাংক চেক লেনদেন ও ইএফটিএন—এই দুটিই ব্যাংকিং সেক্টরের আর্থিক খাতে লেনদেনের অন্যতম বড় দুটি মাধ্যম। আন্তঃ ব্যাংক লেনদেন হলো—কেউ যদি সোনালী ব্যাংকের চেক অন্য কোনো ব্যাংকে জমা দেয় তাহলে তা নিষ্পত্তি হবে না। আবার কেউ অনলাইনে সোনালী ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে ফান্ড ট্রান্সফার করলে তাও নিষ্পত্তি হবে না। সার্ভার সমস্যার কারণে এখন কেউ চেক পোস্টিং দিয়ে রাখলে বা ফান্ড ট্রান্সফার করলে এখন তা নিষ্পত্তি না হলেও সমস্যার সমাধান হলে তাত্ক্ষণিক তা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকে আইটি বিপর্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আন্তঃ ব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তি না হওয়ায় জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে বহুজনকে। যারা ইএফটিএনের মাধ্যমে ঋণের কিস্তি বা ক্রেডিট কার্ডের বিল দিয়েছেন, সেগুলো সময় মতো নিষ্পত্তি না হলে লেট পেমেন্ট ফি দিতে হতে পারে। অবশ্য আরটিজিএস (রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট) চালু রয়েছে। ফলে আন্তঃ ব্যাংক লেনদেন একবারে বন্ধ হয়ে যায়নি।

গত ৫ এপ্রিল এক সপ্তাহের জন্য বিধিনিষেধ দেওয়ার সময় লেট পেমেন্ট নেওয়া যাবে না বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রজ্ঞাপন দিলেও ১৪ এপ্রিল থেকে আরো এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধের আগে এই ধরনের কোনো প্রজ্ঞাপন আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, যখন ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয় তখন হলিডে লেখা সার্ভারে যুক্ত হওয়ার কারণে সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। পরে যখন আবার ব্যাংক চালুর ঘোষণা দেওয়া হলো, তখন সার্ভার চালু হতে সময় নিচ্ছে। তিনি জানান, ব্রডব্যান্ড লাইনে ত্রুটি রয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসির বিভিন্ন সমস্যার কারণে লেনদেনের ক্ষেত্রে এই প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।