অণুগল্প

প্রথম বৃষ্টি

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২১:০৭

 

মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির স্পর্শ রিমির মনে অনেক প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়। ভ্যাপসা গরমে এত দিন ঘরের মধ্যে বন্দি থাকতে থাকতে শরীর ও মন দুটোই চরম অস্বস্তিতে আক্রান্ত হয়েছে। এই দুপুরে হঠাত্ বৃষ্টি সেই চেপে বসা অস্বস্তি অনেকটাই দূর করছে। কিছুক্ষণ পর পাশে হঠাত্ শাহেদকে আবিষ্কার করে সে। দুপুরে খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়েছিল। হয়তো ঘুমিয়েও পড়েছিল। দুপুরের হঠাত্ এই ঝড়-বৃষ্টির ঠান্ডা বাতাসের ছোঁয়া পেয়ে হয়তো তার ঘুম ভেঙে গেছে। বিছানা ছেড়ে উঠে সে কখন যে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এই বারান্দায়।

শাহেদকে দেখে অনেক মুগ্ধতা আর উচ্ছ্বাস নিয়ে সে বলে, ‘দেখো, আজ কতদিন পর বৃষ্টি এলো। কী যে ভাল্লাগছে। আমার তো গলা ছেড়ে গাইতে ইচ্ছে করছে, ‘অনেক বৃষ্টি ঝরে তুমি এলে...’।

পাশে দাঁড়ানো রিমির উচ্ছ্বাস শাহেদকে স্পর্শ করলেও মুখে কিছু বলে না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে বৃষ্টির অবিরাম ঝরে পড়া দেখতে থাকে। মুষলধারে বৃষ্টি ইচ্ছে এখন। সঙ্গে এলোমেলো ঝড়ো হাওয়া বইছে। ঝড়ো হাওয়ার শীতল স্পর্শ খুব দ্রুতই তার দেহমনে অদ্ভুত এক অনুভূতি ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বারান্দা থেকে দাঁড়িয়ে পাশের মাঠের সবকিছু দেখা যায়। এই মাঠে এলাকার ছেলেরা সকাল-বিকাল ফুটবল ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকে। মাঠের আশেপাশে কেউ বসে আড্ডা দেয়, গল্প করে সময় পার করে। কিন্তু করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর এখন ঘর থেকে কেউ সহজে বাইরে বেরোয় না। শাহেদ খোলা মাঠের দিকে তাকিয়ে দেখে, এর মধ্যেই অনেক পানি জমে গেছে সেখানে। মাঠটাকে ভীষণ নিঃসঙ্গ দুঃখী মনে হচ্ছে এখন। অন্য সময় হলে মাঠটা জমজমাট, জীবন্ত হয়ে উঠত। প্রাণঘাতী এক ভাইরাস সবার উচ্ছ্বাস, আবেগ কেড়ে নিয়েছে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরে অঝোর ধারায় মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি পড়া দেখতে দেখতে শাহেদ ভুলে যেতে চেষ্টা করে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ তাণ্ডবের নানা ঘটনা। তার চোখের সামনে পৃথিবীটা যেন নতুনভাবে ধরা দিতে থাকে। হঠাত্ বৃষ্টি এসে পৃথিবীর সব দুঃখ, গ্লানি, শোক, বেদনা, হতাশা, শঙ্কা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দিচ্ছে। শাহেদ খেয়াল করে—রিমিও মুগ্ধ চোখে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি উপভোগ করছে। আবেগে উচ্ছ্বাসে রিমির হাতটা স্পর্শ করে শাহেদ, তারপর চেপে ধরে রাখে। স্বামীর হঠাত্ এমন আচরণে কিছুটা চমকে ওঠে রিমি। অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে সে শাহেদের মুখের দিকে।