বিনোদন রিপোর্ট
কাজল আরেফীন অমি পরিচালিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকটি নিয়ে নেটিজেনদের ভেতরে সম্প্রতি তুমূল হইচই শুরু হয়েছে। এই তুলকালাম বাংলা নাটকের উত্কর্ষ কি-না তা নিয়ে অনেকে অবশ্য প্রশ্নও তুলেছেন। তবে নাটকটি তরুণদের ভেতরে যে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। এছাড়াও কোনো ধারাবাহিক নাটকের সিক্যুয়েল সাধারণত ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে ম্লান হতে থাকে। এক্ষেত্রে ব্যাচেলর পয়েন্ট অনবদ্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। ধীরে ধীরে রে জনপ্রিয়তা বেড়েছে ঈর্ষণীয় গতিতে। বিশেষ করে জিয়াউল হক পলাশ অর্থাত্ কাবিলা চরিত্রটি হয়ে উঠেছে সবার ভেতরে দারুণ জনপ্রিয় একটি নাম। তরুণদের ভেতরে দারুণ এক ক্রেজে পরিণত হয়েছেন তিনি।
ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকটির তৃতীয় সিজনের শেষ পর্ব দেড় কোটি দর্শক উপভোগ করেছে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে টিভি স্টেশনের নাটকগুলোর জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এই সিরিজটি মূলত টিভি চ্যানেলের জন্যই শুরু হয়েছিল। অতঃপর তৃতীয় সিরিজটি প্রকাশ পায় ধ্রুব টিভি নামের ইউটিউব চ্যানেলে। তাই নাটকের দর্শক প্রিয়তার সঙ্গে যে বড় বড় টিভি চ্যানেলের কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই সেটিই আবারো প্রমাণ পেল।
ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকটির মূল ইএসপি ছিল মূলত শহুরের মেস জীবনের গল্প। মধ্যবিত্ত তরুণ দর্শকরা নিজেদের গল্পে দেখেছে এর চরিত্রগুলোতে। এর মূল অভিনেতা পলাশ বলেন, ‘ব্যাচেলর পয়েন্টের নির্মাতা অমি ভাই আমার কাছে পাওয়ার হাউজ। আমরা একসঙ্গে নির্মাণেও যেহেতু থাকি তাই দুজনের রসায়নটিও দারুণ জমে। কোনো কোনো সময় দেখা গেছে, নাটকরে কোনো শট নিয়ে আমি আর অমি ভাই একইরকমভাবে ভাবছি।’
অন্যদিকে নাটকে এখন জনপ্রিয়তার মাপকাঠিকে ব্যাচেলর পয়েন্ট না কাবিলা? এ নিয়েও বড় প্রশ্ন দেখা গেছে। পলাশ বলেন, ‘দুটো বিষয়ই পরিপূরক। তবে নাটকে কিছু অসঙ্গতি ও অশ্লীল সংলাপের ব্যবহারে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা গণমাধ্যমে বলেছেন, একটি মেস জীবনের প্রাসঙ্গিকতা দেখাতে হয়তো আরো কিছুর প্রয়োজন ছিল। আর যেহেতু এটি একটি ডিজিটাল প্লাটফর্মে তাই এটুকু খুব যৌক্তিকভাবেই দেখানোর চেষ্টা করেছি। তবে এর বাইরে যা প্রচার করা হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই। অনেকেই হয়তো তর্কের খাতিরেই তর্ক করছেন। কারণ আমরা ব্যাচলর পয়েন্টে তরুণ জীবনের হিউমার নিয়ে খেলা করার চেষ্টা করেছি।’
উল্লেখ্য, কাবিলা চরিত্রের পলাশকে গ্রেফতার করার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এরই ভেতরে নেটিজেনদের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ইমোশনাল পার্টটি সিজনের শেষ পর্বের ক্লিপ হ্যাঙ্গার হিসেবে ব্যবহার করেছেন নির্মাতা। তাই নতুন সিজনের জন্য বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেই এটি শেষ করলেন। এদিকে পুরো নাটকটিতে দু-একজহন কাস্টিং মাঝপথে বাদ পড়লেও সবার সঙ্গে একটি দারুণ আত্মীক সম্পর্ক তৈরি হয়। নির্মাতা অমি ঘোষণা দিয়েছেন কয়েকবছর পরে এর নতুন সিজন করলেও পুরনো সিজনের প্রত্যেকে কে, কোথায় আছেন তার খোঁজ নেবেন এবং একইভাবে তাদের নিয়েই আবার নতুন গল্প বাঁধবেন।
