করোনা : ভারতে টানা দ্বিতীয় দিন ২ লাখের বেশি রোগী শনাক্ত

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২১:১১

হাসপাতালে ওষুধের ঘাটতি, কালোবাজারে  বিক্রি হচ্ছে কয়েক গুণ দামে

বিবিসি ও রয়টার্স

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে প্রায় পৌনে ২ লাখ মানুষের মৃত্যু দেখা ভারতে টানা দ্বিতীয় দিন দুই লাখের বেশি নতুন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার সকালে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২৪ ঘণ্টায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৩ জনের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তের খবর নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে গত ৯ দিনে ৮ বার ভারত দৈনিক শনাক্তে আগের দিনের রেকর্ড ভেঙেছে।

ভারতে সরকারি হিসাবেই আক্রান্তের মোট সংখ্যা ১ কোটি ৪৩ লাখের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে; ৩ কোটি ১০ লাখের বেশি আক্রান্ত নিয়ে এর উপরে আছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ভাইরাসে আরো ১ হাজার ১৮৫ জনের মৃত্যুর খবরও দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ভারতে দৈনিক শনাক্ত কমতে কমতে ১০ হাজারের নিচে নেমে এসেছিল; মার্চ থেকে ঐ চিত্র উলটাতে শুরু করে। ২ এপ্রিল থেকেই দেশটিতে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রথমবার ২৪ ঘণ্টায় ২ লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের খবর দেয়। দৈনিক শনাক্ত ১ লাখ থেকে ২ লাখে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রের যেখানে ২১ দিন লেগেছিল, ভারতের সেখানে লাগে মাত্র ১১ দিন। সংক্রমণের এ উল্লম্ফনের কারণে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের হাসপাতালগুলোতে রোগী উপচে পড়ছে। চিকিত্সাসরঞ্জাম ও অক্সিজেনেরও সংকট দেখা দিয়েছে; কোথাও কোথাও এক শয্যায় দুই রোগীকে রেখে চিকিত্সা দিতে হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে দেশটিতে করোনা চিকিত্সায় জরুরি অনুমোদন পাওয়া বেশকিছু ওষুধের ঘাটতি থাকলেও কালোবাজারে তা কয়েক গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে বলে বিবিসির এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। রাজধানী দিল্লিসহ দেশটির অনেক শহরেই এখন হাসপাতাল বা ওষুধের দোকানে রেমডিসিভির বা টসিলিজুমাব ওষুধ মিলছে না। অথচ দিল্লির তিন জন এজেন্ট বিবিসির প্রতিবেদককে ২৪ হাজার রুপিতে ১০০ মিলিগ্রাম রেমডিসিভির সরবরাহে রাজি হয়েছেন; এই দাম ওষুধটির সরকার নির্ধারিত মূল্যের প্রায় পাঁচ গুণ।

করোনা ভাইরাসে রেমডিসিভির ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ভারতের চিকিত্সকরা কোভিড রোগীদের আপাতত এ ওষুধই দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকার ওষুধটি দেশের বাইরে রপ্তানি বন্ধ রেখেছে; এরপরও ভারত জুড়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর জন্য রেমডিসিভির বানাতে ওষুধ কোম্পানিগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একই অবস্থা টসিলিজুমাব ওষুধের ক্ষেত্রেও। কোভিড-১৯ রোগীর চিকিত্সায় আর্থ্রাইটিসের এই ওষুধ কাজ করে এমন তথ্য চাউর হওয়ার পর ভারতের বাজারে আর ওষুধটি পাওয়া যাচ্ছে না।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় হিমশিম খাওয়া ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে এখন আসন ও অক্সিজেনের সংকটও প্রবল। ছোট শহরগুলোর সরকারি ল্যাবে এক্সরে ও সিটি স্ক্যানের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। ভারত জুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এখন আক্রান্তদের বাঁচাতে পরিবারের সদস্যদের আকুতিতে ভরে উঠছে। কোনো হাসপাতালে আসন খালি হয়েছে কি না, সে সব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট আছে কি না, তার খোঁজ করছেন অসংখ্য মানুষ।