মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় কী ভাবছে সাধারণ আফগানরা

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২১:১৫

আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে বিদায় নেবে সব মার্কিন সেনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এমন ঘোষণার পর দেশটির ভবিষ্যত্ নিয়ে এখন অনেকেই চিন্তাভাবনা করছেন। কেউ কেউ দেশটির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, আফগানিস্তানে কি সত্যিকার অর্থে মার্কিন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? এমনই অবস্থায় দেশটির সাধারণ মানুষই-বা কী ভাবছে?

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি বিদেশি এনজিওতে কাজ করেন মোহাম্মদ ইদ্রিস। ৩১ বছর বয়সি এ যুবক সিএনএনকে বলেন, সেনা প্রত্যাহার আমাদের সুবিধার জন্য নয়। এতে সহিংসতা হবে, নিরাপত্তাহীনতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাবে এবং আরো একবার আফগান লোকেরা আফগানিস্তান ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় খুঁজতে শুরু করবে। অনেক আফগান আশঙ্কা করছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে তালেবানরা ক্ষমতার আরো কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সশস্ত্র এ গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আফগান সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইতিমধ্যে দেশটির বিশাল একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলা সত্ত্বেও চলতি বছর আফগানিস্তানে সহিংসতা আরো বেড়েছে। গত বুধবার প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আফগানিস্তানে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা ২৯ শতাংশ বেড়েছে। এর পেছনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সরকারবিরোধী হামলা-সহিংসতাকে দায়ী করা হয়েছে।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তবে আফগান সংসদের স্পিকার মির রহমান রহমানি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এর ফলে দেশটিতে আবারও গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। তার কথায়, আফগানরা মার্কিন সেনা প্রত্যাহার চায়, তবে সেটি এখনই নয়। —সিএনএন