ভোলায় হাত ধোয়ার বেসিনগুলো এখন পরিত্যক্ত

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২১:২৭

বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি

কোভিড-১৯-এর প্রথম ঢেউতে ভোলার বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়া কর্মসূচির আওতায় জরুরি ভিত্তিতে নির্মিত ওয়াশ ব্লক (বেসিনসমূহ) এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভোলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত এসব হাত ধোয়ার বেসিন নোংরা, আবর্জনার স্তূপ, ধুলোবালি মাখা অবস্থায় সম্পূর্ণ ব্যবহার অযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে। করোনার ২য় ঢেউ শুরু হলেও এসব বেসিনগুলো চালুর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে পথচারীরা এগুলো এখন আর ব্যবহার করতে পারছে না।

সরজমিনে দেখা যায়, ভোলা শহরের যোগীরঘোল চত্বর, সদর উপজেলা চত্বর, সাবরেজিস্ট্রার অফিস, ভোলা সরকারি স্কুল মাঠ, ভোলা সদর হাসপাতাল, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ভোলা পৌর ভবনের সামনে, পরাণগঞ্জ বাজার মসজিদসংলগ্নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লোকসমাগম স্থানে ১৬টি বেসিন নির্মাণ করে ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এছাড়া ভোলা শহরের বাইরে প্রতি উপজেলায় দুইটি করে জেলায় ২৮টি বেসিন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর কিছুদিন এগুলো সচল থাকলেও তদারকির অভাবে এসব বেসিনগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে।

যোগীরঘোল বাজার ব্যবসায়ী ইজমাউল হক বলেন, গত বছর করোনার সময় তাড়াহুড়ো করে বেসিনগুলো নির্মাণ করে কেউ এটার দেখভাল করেনি। কিছুদিন চলার পর হঠাত্ করে অচল হয়ে যায়। সাবান, পানি কোনো কিছুরই ব্যবস্থা ছিল না। ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ইলিয়াছ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ইলিয়াছ বলেন, জেলায় জরুরি ভিত্তিতে ২৮টি বেসিনের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠান ২২টি বেসিন ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন। বর্তমানে বেসিনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ইলিয়াছ বলেন, জরুরি ভিত্তিতে বেসিনগুলো নির্মাণ করে আমরা ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করি। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, আমরা ইউনিসেফ থেকে যে পরিমাণ সাবান পেয়েছি সব বেসিনেই দিয়েছি। কিন্তু পরে আর সাবান পাওয়া যায়নি। বেসিনগুলোর পরিচর্যার ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদ খান বলেন, গত বছর জরুরি ভিত্তিতে ২৮টি বেসিন নির্মাণ করা হয়। করোনা-পরবর্তী সময় এগুলো আর পরিচর্যা করা হয়নি। নির্মাণের সময় যে স্থানে বেসিনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করবে বলে তারা প্রস্তাব রেখেছিল। কিন্তু কেউ প্রতিশ্রুতি রাখেনি। যেহেতু আবার কোভিড-১৯ ২য় ধাপ শুরু হয়েছে তাই বেসিনগুলো পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা মনে করে সব উপজেলায় চিঠি দেব। প্রয়োজনীয় পানির জন্য আমরা পুনরায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করব আর এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন মনিটরিং অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।