নারীদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২১:২৮

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরের মুজিবনগরে নারীদের নতুন কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হয়েছে পরচুল বা চুল দিয়ে ক্যাপ তৈরি করার কাজের মাধ্যমে। উপজেলার কয়েকটি গ্রামে গড়ে উঠেছে পরচুল বা ‘হেয়ার ক্যাপ’ তৈরির কারখানা। এ সব কারখানায় কাজ করছেন শতাধিক দরিদ্র নারী ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। আর এসব পরচুল তৈরি করে তারা প্রতি মাসে আয় করছেন ৫-৭ হাজার টাকা।

সরেজমিনে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ভবরপাড়া গ্রামের দিলিপ মল্লিক, সোনাপুর গ্রামের সোহরাব হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তির উদ্যোগে গড়ে ওঠে পরচুল ‘হেয়ার ক্যাপ’ তৈরির কারখানা। সেখানেই এলাকার শত শত বেকার শিক্ষিত নারী খুঁজে পায় বাড়তি আয়সহ নতুন কর্মসংস্থানের। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে এ শিল্পের কাজ। পরচুল ‘হেয়ার ক্যাপ’ তৈরি কারখানায় কাজ করেন মুক্তা খান। তিনি জানান, কোনো জিনিস কেনার জন্য আমাদের এখন আর স্বামীর কাছে হাত পাততে হয় না। যা রোজগার করছি তাতে নিজেদের খরচ মিটিয়ে সংসারে ব্যয় করতে পারছি। কলেজ শিক্ষার্থী দৃষ্টি মল্লিক ও ফারজানা খাতুন জানান, করোনার কারণে আমাদের কলেজ বন্ধ। অবসর সময়ে কারখানায় কাজ করে প্রতি ক্যাপে ৫০০-১০০০ টাকা পাচ্ছি। একটি ক্যাপ তৈরি করতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে।

ভবরপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য দিলিপ মল্লিক জানান, আমার কারখানায় বর্তমানে ৭০ জন নারী কাজ করে। আর এই কাজের মাধ্যমে অনেক হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েরা তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করছে। তিনি আরো জানান, ঢাকার উত্তরার কিছু প্রতিষ্ঠান চুল দিয়ে যায় এ ক্যাপ তৈরি করার জন্য। আবার তাদের কাছেই এ ক্যাপগুলো বিক্রি করা হয়। সোনাপুর গ্রামের হেয়ার ক্যাপ কারখানার মালিক সোহরাব হোসেন জানান, আমার কারখানায় ৪০-৫০ জন মেয়ে কাজ করত। তবে করোনার কারণে আগের থেকে কাজ কমে গেছে। এ বিষয়ে বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ূব হোসেন জানান, এই ধরনের শিল্পকারখানার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোর পরিবর্তন ঘটবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন সরকার জানান, মুজিবনগর উপজেলা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য রোল মডেল। এখানে অনুকূল পরিবেশের কারণে দরিদ্র ও বেকার যুবক-যুবতিরা এ ধরনের কাজে নিয়োজিত হয়ে আয় করছে যা জেনে ভালো লাগছে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা হিসেবে অনেকের এ পেশায় বিকাশ ঘটছে। উভয়েই স্বাবলম্বী হচ্ছে। তারা নিজের ও দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।