ঝিনাইদহে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২১:২৯

শৈলকুপায় সরকারি ৩৮০০ নলকূপে পানি উঠছে না

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় হস্তচালিত নলকূপ ও শ্যালো মেশিনে (অগভীর নলকূপ) পানি উঠছে না। খাবার ও সেচের পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শৈলকুপা উপজেলার মানুষ। এ উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩০-৩৫ ফুট নিচে নেমে গেছে। অন্তত ২৫ হাজার হস্তচালিত নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে।

শৈলকুপা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তার সূত্রে জানা যায়, সারুটিয়া, হাকিমপুর, ধলহরাচন্দ্র, কাঁচেরকোল, বগুড়া, দিগনগর, মনোহরপুর, আবাইপুর, নিত্যানন্দপুর, উমেদপুর ইউনিয়নে ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় বেশিসংখ্যক হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠছে না। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর, গান্না ও নলডাঙ্গা ইউনিয়নের কোনো কোনো এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠছে না। কালীগঞ্জ উপজেলায়ও বহু হস্তচালিত নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে। পাঁচ মাস বৃষ্টি না হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২৪ ফুটের নিচে নেমে গেলে পানি ওঠে না। একই অবস্থা হয় সেচযন্ত্রগুলোতে। যাদের হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠছে না, তারা অন্যের বাড়ি থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। বোরো ধানের শীষ বের হচ্ছে। এ সময় পানির দরকার বেশি। অনেক সেচযন্ত্র অচল হয়ে পড়ায় জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। ধানখেত ফেটে গেছে। বপন করা পাটের কচিচারা শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে পাট বুনতে পারছেন না। গবাদি পশুও পানির কষ্টে আছে। অনেক পুকুর শুকিয়ে গেছে। এদিকে জিকে প্রকল্পের সেচখালগুলোতেও পানি সরবরাহ করা হচ্ছে না। এতে সংকট আরো প্রকট হয়েছে। অনেক চাষি মাটি খুঁড়ে সেচযন্ত্রের ইঞ্জিন পাঁচ-সাত ফুট গভীরে বসিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করছে। রবিবার ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হয়েছে। এতে পানির স্তর বাড়েনি।

শৈলকুপা পৌরসভার উত্তরপাড়ার মাহফুজা বেগম জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে তাদের এলাকায় টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। এতে পানির সংকটে পড়েছে মানুষ। যাদের টিউবওয়েল সচল আছে তাদের বাড়ি থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বাদালশো গ্রামের আমেনা বেগম বলেন, তাদের গ্রামে অধিকাংশ নলকূপে পানি উঠছে না। বগুড়া গ্রামের  আরিফা খাতুন বলেন, তাদের এলাকায় হস্তচালিত নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে। যাদের গভীর নলকূপ আছে তাদের বাড়ি থেকে পানি আনতে হচ্ছে। বগুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, হস্তচালিত নলকূপ ও সেচযন্ত্রে পানি উঠছে না। এতে খাবার ও সেচের পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের শৈলকুপার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পাঁচ মাস বৃষ্টি না হওয়ায় না ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩০ থেকে ৩৫ ফুট নিচে নেমে গেছে। পৌরসভা এলাকায় কোনো কোনো স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩৮ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে। এতে হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠছে না। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত সমস্যা যাবে না। তিনি বলেন, শৈলকুপা উপজেলায় সরকারি ৩ হাজার ৮০০ নলকূপে পানি উঠছে না। শৈলকুপা উপজেলায় প্রায় ২ লাখ মানুষ পানির কষ্টে পড়েছে। একটি গ্রামে স্বল্পসংখ্যক নলকূপ সচল আছে।