জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে এখন চাষ হচ্ছে ইয়েলো বার্ড, মধুমালাসহ বেশ কয়েক ধরনের তরমুজ। মাচায় দুলছে সেই তরমুজ। শহরের পাঁচুরচক ও হিচমি খুলিপাড়ায় চাষ হওয়া এই ইয়েলো বার্ড ও মধুমালা তরমুজ একনজর দেখতে ভিড় করছেন অনেকেই।
তরমুজচাষি রুহুল কুদ্দুস জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে মাচায় তরমুজ চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হওয়া থেকে পাঁচুরচক এলাকায় দুই বিঘা ও হিচমি খুলিপাড়া এলাকায় চার বিঘা জমিতে এবার ইয়েলো বার্ড, মধুমালাসহ কয়েক ধরনের তরমুজ চাষ করেন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। রমজান মাসে বাজারে এই তরমুজ বিক্রি করে ভালো লাভের আশা করছেন তরমুজচাষি রুহুল কুদ্দুস। তিনি আরও জানান, ফাল্গুন মাসে এসব চারা রোপণ করে মানচিং পেপার দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পরে মাচা তৈরি করার কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রতি বিঘায় গড়ে ১ হাজার ১০০ তরমুজের চারা রোপণ করা হয়েছে। তরমুজের জালি যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সেজন্য পলি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। পোকার কারণে তরমুজের কিছু জালি নষ্ট হয়ে গেছে বলেও জানান কৃষক রুহুল কুদ্দুস। পাঁচুরচক এলাকায় এই প্রথম তরমুজ চাষ করায় বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আসছেন একনজর দেখার জন্য। দেখতে আসা আশিক হোসেন নামের এক যুবক জানান, এলাকায় এই প্রথম তরমুজ চাষ হয়েছে, সেজন্য দেখতে এসেছি। এখানে সবুজ তরমুজের পাশিপাশি হলুদ জাতের তরমুজ চাষ হওয়ায় আকর্ষণ একটু বেশি। সবাই দেখতে আসছে তাই আমিও এসেছি। অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা তরমুজে বাজার এখন সয়লাব। দামও কিছুটা নাগালের মধ্যে রয়েছে। এসব তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ছোট-বড় অনুযায়ী ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। স্থানীয়ভাবে চাষ হওয়া ইয়েলো বার্ড, মধুমালাসহ বেশ কয়েক জাতের তরমুজ সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা কিছুটা বেশি, তাই দামও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায় বলে জানান তরমুজচাষি রুহুল কুদ্দুস। রমজান মাসের শুরুতেই স্থানীয়ভাবে চাষ করা ইয়েলো বার্ড, মধুমালাসহ বেশ কয়েক প্রকার তরমুজ বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক স ম মেফতাহুল বারি জানান, জয়পুরহাটে চলতি মৌসুমে ১০০ বিঘার বেশি জমিতে এবার মাচায় তরমুজ চাষ হচ্ছে। এসব জাতের তরমুজ বিক্রি করে খরচ বাদেও বিঘাপ্রতি প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকবে এমন আশা করা যায়। বাইরে থেকে আসা তরমুজ শেষ হওয়ার পরেই স্থানীয়ভাবে এই তরমুজ বাজারজাত করায় দামটাও থাকে চড়া। তার সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে রমজান মাস। সেই কারণে এবার লাভের আশা করছেন কৃষক।
