সংকটাপন্ন করোনা রোগীদের জীবন রক্ষায় ব্যবহূত ইনজেকশন ‘একটেমরার’-এর তীব্র সংকট চলছে। একটা ইনজেকশনের জন্য ভুক্তভোগী পরিবার শত চেষ্টা করেও জোগাড় করতে পারছে না। রোশ সুইজারল্যান্ড ও জাপানে তৈরি হয় ইনজেকশনটি। রেডিয়েন্ট ফার্মা এর আমদানিকারক। কোম্পানির দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়, তারাও ইনজেকশনটি সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সংখ্যক আমদানি করতে পারছে না। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদার কারণেও উত্পাদক কোম্পানি সরবরাহ করতে পারছে না চাহিদামতো। রেডিয়েন্ট সূত্রে বলা হয়, কেবল ক্রিটিকাল আইসিইউ রোগীদের ক্ষেত্রে স্টক থাকলে ইনজেকশনটি সরবরাহ করা হচ্ছে। এখানে কোনো ধরনের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড আক্রান্তদের ফুসফুসের তীব্র ইনফেকশন হলে এই ইনজেকশন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কার্যকর। মূলত বাত-ব্যথার রোগীদের জন্য ইনজেকশনটি ব্যবহার হতো। এখন বিশ্বব্যাপী সংকটাপন্ন কোভিড রোগীদের চিকিত্সায় এই ইনজেশন কার্যকর বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
বাংলাদেশেও উচ্চ মূল্যের এই ইনজেকশনের চাহিদা অনেক। আমদানিকারক কোম্পানিটি চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছে না। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চোরাপথে লাগেজে করে ইনজেকশনটি দেশে এনে জীবন রক্ষার পরিবর্তে সংকটাপন্ন কোভিড রোগীদের জীবন হরণ করছে। কারণ ভ্যাকসিনের মতো ২ থেকে ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ইনজেকশনটি আমদানি ও সরবরাহ করতে হয়। পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ থেকে লাগেজে আনলে এই ইনজেকশনের কোনো ধরনের কার্যকারিতা থাকে না। অথচ অভিযোগ রয়েছে, অসাধু চক্রটি অবৈধভাবে লাগেজে আনা একটেমরার ইনজেকশনের প্রতিডোজ রোগীদের জিম্মি করে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেছে। তবে এরই মধ্যে ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালকের দ্রুত পদক্ষেপে অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ‘অভিযান অব্যাহত আছে। কোভিড চিকিত্সার ইনজেকশন বা ওষুধ নিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শুধু অসাধু লাগেজ পার্টি নয়, এই কাজে যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ঢাকা
