মুজিবনগরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রের অনেক কাজ এখনো শেষ হয়নি

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:২০

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের ৫০ বছর

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার মুজিবনগর। স্বাধীনতার ৫০ বছরে মুজিবনগরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্র, ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যর স্বাধীনতা সড়ক বাস্তবায়ন হয়েছে। ঘোষণায় রয়েছে সম্ভাব্য চেক পোস্ট, মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন এবং নতুন করে ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের আন্তর্জাতিক মুক্তিযুদ্ধ পর্যটন কেন্দ্রের । স্বাধীনতার এই পীঠস্থান তেমন কিছুই পাইনি। যা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে এলাকাবাসীর। ৮০ একর জমি অধিগ্রহণ করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৈদ্যনাথতলায় নির্মাণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্র। নতুন করে আরো ১ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য। তবে নির্মিত বেশ কিছু স্থাপনায় ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন সংশোধন করে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরে স্থাপনাগুলো নির্মাণ করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পের মধ্যে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর ভিত্তিক বাংলাদেশ মানচিত্র নির্মাণকাজ শেষ হয়ে ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি। মানচিত্রে পুরো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন চিত্র ফুটে উঠলেও মুজিবনগরের শপথ নেওয়ার কোনো চিত্র সেখানে স্থান পায়নি। মানচিত্রের বাইরে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ভাস্কর্যসহ অন্যান্য ভাস্কর্যগুলো অতি নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি এবং মূল নকশা অনুযায়ী না হওয়ায় সেগুলো ভেঙে ফেলে নতুন করে তৈরি করার জন্য আরো ৩ কোটি টাকার প্রকল্প পাশ করা হয়েছে। মানচিত্রের বাইরে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ভাস্কর্যসহ অন্যান্য ভাস্কর্যগুলো এতটাই নিম্ন মানের যা মাঝে মধ্যেই ভেঙে পড়ে। অনেকগুলোর ভেতরের রডের বদলে চিকন তার দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে শিলাবৃষ্টি বা ঝড় হলে সেগুলো ভেঙে যায়। কয়েক দফা সেগুলো পুনরায় রিপেয়ারিং করাও হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসকে ঘিরে রিপেয়ারিংসহ পলিশ করে দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়। তবে করোনা অতিমারির কারণে গত দুই বছর ধরে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুষ্ঠান না করায় সেটিও বন্ধ রয়েছে। কমপ্লেক্স ছাড়াও ঐতিহাসিক আম্রকাননের অনেকগুলো গাছ পরিচর্যার অভাবে মারা গেছে। ঐ স্থলে নতুন কোনো গাছ রোপণ করাও হয়নি।

বাগানটি ঘুরে দেখা গিয়েছে, প্রায় ১০ থেকে ১২টি গাছ মরে গেছে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণের স্থান, ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহের স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা সমৃদ্ধ তথ্য ও নিদর্শন দেশবাসী ও তথা ভবিষ্যত্ প্রজন্ম এবং বিদেশিদের কাছে মূর্ত করে তুলতে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হয়ে যাওয়াতে পর্যটকরা হতাশ হচ্ছেন। মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে কাজ শুরু করে মাঝে প্রকল্প কাটাছেঁড়া করা হয়। ফলে কাজটি শেষ হয় ২০১১ সালে। অতি নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণেই ভাস্কর্যগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। প্রকল্পের অন্যান্য কাজ এখনো অসমাপ্ত আছে।

স্বাধীনতা সড়ক :১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ভারতের কলকাতা থেকে একটি মেঠোপথ ধরে জাতীয় চার নেতাসহ দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরা এসেছিলেন তত্কালীন বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (মুজিবনগরে) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। সেই মেঠোপথটিকে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর উদ্যাপন উপলক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘স্বাধীনতা সড়ক’ নামে নামকরণ করেছে। ঐ মেঠোপথটির বাংলাদেশের অংশ ৫০০ মিটার ইতিমধ্যে পাকাও করা হয়ে গেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে অনুষ্ঠানে এটি উদ্বোধন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।