চট্টগ্রামে মসজিদে প্রবেশের সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনে অনীহা

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:২২

জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা দেখছে পুলিশ

চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামে মসজিদে তারাবিসহ সব ধরনের নামাজে সর্বোচ্চ ২০ জন নিয়ে জামাত করার সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনে নগরবাসীর মধ্যে অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, মসজিদে কতজন উপস্থিত হয়েছেন তা আগে থেকে জানার সুযোগ নেই। তাই প্রতি ওয়াক্তেই বিপুলসংখ্যক মুসল্লি নামাজ পড়তে মসজিদে যান। ওয়াক্তের নামাজের তুলনায় জুমা ও তারাবির নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে কয়েক গুণ বেশি। সরকারি বিধিনিষেধের কারণে কে কার আগে মসজিদে প্রবেশ করবেন তা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুলিশের সঙ্গে মুসল্লিদের বাগিবতণ্ডা, হাতাহাতি এমনকি মারামারিও হচ্ছে। অনেকে মসজিদের ভেতরে জায়গা না পেয়ে রাস্তায় জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়েন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গত বুধবার রাতে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি-ব্লক জামে মসজিদে প্রবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন মুসল্লিরা। জানা গেছে, পুলিশ হ্যান্ডমাইকে সরকারি নির্দেশনার কথা জানালে লোকজন জোর করে মসজিদে প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে উপস্থিত লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৪০ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে যাচাই বাছাই করে পাঁচ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে মামলা করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—মেহেদী হাসান, সাহেদুজ্জামান, মো. জিয়া উদ্দিন, মো. ইব্রাহিম ও মাহমুদুল হক। এরা সবাই জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে পুলিশ দাবি করেছে।

চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজেশ বড়ুয়া বলেন, সরকারি নির্দেশনা না মেনে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি-ব্লক জামে মসজিদে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে। সেখান থেকে আটক ৪০ জনের মধ্যে পাঁচ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, যারা ঐ এলাকায় বহিরাগত। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পুলিশ কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া বলেন, জামায়তে ইসলামীর লোকজন ‘পরিকল্পিত’ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ধর্মীয় বিষয়টি বেছে নিয়েছে। এ ঘটনায় নেতৃত্বে থাকা আরো ছয় জনের নাম পাওয়া গেছে, যারা বিকালেও ঐ এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছিল।

নগরীর হিলভিউ আবাসিক এলাকার কল্যাণ সমিতির নেতা কায়সার রিজভী বলেন, আমাদের এলাকার মসজিদে সর্বোচ্চ ২০ জন নিয়ে জামাত করার নির্দেশনা কেউ মানছে না। আমাদের মসজিদে ওয়াক্তের নামাজে ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মুসল্লি নামাজ পড়েন। কিন্তু জুমা বা তারাবির নামাজে গড়ে ২ হাজার মুসল্লি আসেন।