লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা
ভোলার লালমোহনে পাওনা টাকা পরিশোশে চাপ দেওয়ায় দুলাল হোসেন (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে বেদম মারপিট ও হাতুড়ি পেটা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। মারপিট ও নির্যাতনের পর একটি সুপারির বাগান থেকে অচেতন অবস্থায় ঐ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে প্রথমে লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার শিকার ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন ঐ এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে এবং তিনি এলাকায় রাখীমাল ও ভুষা মালের ব্যবসা করেন বলে জানাগেছে। লালমোহন থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, এ ঘটনায় দুলালের চাচা এলাকার ইউসুফ খার ছেলে জিহাদকে প্রধান আসামি করে বৃহস্পতিবার রাতে এজাহার দায়ের করেছেন এবং আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।
দুলালের চাচা নুরে আলম জানান, এলাকার জয়নাল আবেদিন প্রায় তিন বছর আগে দুলালের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার নেয়। এর পর দেই-দিচ্ছি করে আর পরিশোধ করেনি। গত চার-পাঁচ দিন ধরে জয়নাল আবেদিনকে টাকার জন্য চাপ দেয় দুলাল। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ঝগড়া হয়। এই ঝগড়ার জের ধরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুলালের বসত ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে দুলালের পরিবারের ওপর এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে জয়নালের লোকজন। এক পর্যায়ে ঘরের বেড়া ও জানালা-দরজা ভেঙে তছনছ করে দুলালকে টেনে হিঁচড়ে পার্শ্ববর্তী একটি বাগানের মধ্যে নিয়ে বেদম নির্যাতন ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। এ ব্যাপারে জয়নাল আবেদিনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জয়নাল আবেদিনের চাচা রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে কেউ অন্যায় করলে তার বিচার হওয়া উচিত।
