শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের করোনা ওয়ার্ডে নানা সংকট

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৮

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিত্সার প্রধান ভরসাস্থল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট করোনা ওয়ার্ডে বিরাজ করছে নানারকম সংকট। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ওয়ার্ডে রোগীদের চাপ বাড়তে থাকলেও চিকিত্সকের অভাবে যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। তিন শিফটে মাত্র ১৫ জন চিকিত্সক দায়িত্ব পালন করায় মুমূর্ষু রোগীদের পাশে নার্স ব্যতীত কোনো চিকিত্সক পাওয়া যায় না। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন ছিলেন ১৫৬ জন রোগী। মোট ১২টি আইসিইউ বেডের সবগুলোই রোগীতে পরিপূর্ণ। আরো অন্তত ২০ জন আছেন যাদের জরুরি আইসিইউ সেবা প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড না থাকায় তারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া করোনা ওয়ার্ডের আইসিইউতে কোনো নির্ধারিত চিকিত্সক নেই। অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ থেকে তিন জন চিকিত্সক সেখানে ৩ শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে জানান হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. মনিরুজ্জামান। ওয়ার্ড পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা কিংবা রোগীর দেখভালের জন্য এই ওয়ার্ডে নেই কোনো চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। সামান্য বেতনে নামমাত্র রোগীর সেবা করেন বহিরাগত প্রায় বিশ জন নারী।

গত বছর করোনা সংক্রমণ শুরুর পর হাসপাতালের নবনির্মিত পঞ্চম তলা ভবনটিতে করোনা ওয়ার্ড করার পর চিকিত্সক ও অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে অক্সিজেন সংকট না থাকলেও চিকিত্সক সংকটের সমাধান আজও হয়নি। অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ দিন দিন অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে ও রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রোগীদের বেডের সামনে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলেও তা পরিষ্কারের কেউ নেই। ওয়াশরুমে বেসিনে পড়ে থাকা আবর্জনা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। আর টয়লেটের অবস্থা তো যাচ্ছেতাই। নিচ তলায় গিয়ে দেখা গেল ডাস্টবিনগুলো সবই আবর্জনায় পরিপূর্ণ। এছাড়া করোনা ওয়ার্ডের সামনের মাঠেও আবর্জনার স্তূপ। আবর্জনায় আগুন দেওয়ায় ময়লা পোড়া গন্ধে পরিবেশ আরো দুঃসহ হয়ে উঠেছে।

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. মনিরুজ্জামান জানান, করোনা ওয়ার্ডের জন্য নতুন করে চিকিত্সক, নার্স, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী সংযুক্ত করা হয়নি। ফলে মূল হাসপাতালে যা জনবল রয়েছে তা দিয়েই চলছে করোনা ইউনিট।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ওয়ার্ডের আইসোলেশন ও করোনা ওয়ার্ডে মোট ১৫৬ জন চিকিত্সাধীন ছিল। ঐ সময় পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে থাকা চার জন ও করোনায় আক্রান্ত এক জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত এই ওয়ার্ডে মোট ৩ হাজার ৭৭৫ জন ভর্তি হয়েছেন, মারা গেছেন ৫৫১ জন।

হাসপাপাতাল সূত্র জানায়, করোনার প্রকোপ দেখা দিলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালের পূর্ব দিকের নতুন পাঁচতলা ভবনটিতে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই করোনা ইউনিট চালু করা হয়। প্রথম দিকে ২০ শয্যা দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু করোনা ও আইসোলেশন ওয়ার্ড মিলিয়ে সেখানে ১৫০ এর অধিক রোগী গড়ে প্রতিদিন থাকছেন। হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ দিন দিনই বাড়ছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল  ইসলাম জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ শয্যা ও সাধারণ শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ৫০টি সাধারণ শয্যার পাশাপাশি ১০টি আইসিইউ বেড বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ১০টি আইসিইউ শয্যা পাঠানোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।