রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে মামুনুল, বাবুনগরীসহ হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করুন

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০০:২০

মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহিদের আত্মদান অর্থবহ করতে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাংলাদেশ গড়তে হলে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতারা। তারা বলেছেন, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও সন্ত্রাসের অপরাধে অবিলম্বে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করতে হবে। গতকাল শুক্রবার বিকালে ‘জামায়াত-হেফাজত চক্রের বাংলাদেশ বিরোধী তত্পরতা : সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা একথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, হেফাজতের ইসলাম জামায়াতের মতো একই ধারায় ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে চায়। স্বাধীনতা মানে না বলেই তারা সুবর্ণজয়ন্তী বানচাল করার চেষ্টা করেছে। তাদের উদ্দেশ্য—মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত করা ও বাংলাদেশকে পাকিস্তানে পরিণত করা। যারা জাতীয় সংগীত মানে না, জাতির পিতাকে মানে না, সংবিধান মানে না—তাদের ছাড় দেওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, এই ধরনের ইসলামিক দলগুলো ভবিষ্যতে সব ইসলামিক দলগুলোকে এক জায়গায় এনে সরকার বিরোধী আন্দোলনের চেষ্টা করবে এবং বাংলাদেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। এসব বিষয়ে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দলগুলোর ভেতর হেফাজতের অবস্থান সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে হবে এবং বিভ্রান্তি দূর করতে হবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং সন্ত্রাসের দায়ে বাবুনগরী, মামুনুলসহ সব নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। সব মাদ্রাসাকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সব মসজিদে রাজনৈতিক বক্তব্য নিষিদ্ধ করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্র্রদায়িকীকরণ দূর করতে হবে।

কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, হেফাজত যদি রাজনৈতিক দল হয়ে থাকে, তাহলে মাদ্রাসায় বাচ্চাদের ভর্তি করে আমরা কেন তাদের সদস্য তৈরি করে দিচ্ছি? মাদ্রাসাগুলো থেকে আমরা দক্ষ জনশক্তি পাচ্ছি না। দারিদ্র্যতার কারণে বাবা-মা তাদের কোমলমতি শিশুদের মাদ্রাসায় পাঠায়। বাউলদের আমরা মূল্যায়ন না করে হেফাজতকে মূল্যায়ন করি।

সভাপতির বক্তব্যে নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, জামায়াতে ইসলামির পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের মৌলবাদী সন্ত্রাসী রাজনীতি অবিলম্বে নিষিদ্ধকরণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করব। প্রশাসন মাঠপর্যায়ের হেফাজত কর্মীদের গ্রেফতার করলেও মামুনুল, বাবুনগরীর মতো মৌলবাদী সন্ত্রাসের গডফাদারদের এখন পর্যন্ত কেন গ্রেফতার করছে না, এটা আমাদের বোধগম্য নয়। হেফাজতের মতো জঙ্গি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যে কোনো ধরনের সমঝোতা বাংলাদেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। যা বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত চক্রের মূল উদ্দেশ্য।

ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন সমাজকর্মী রাশেক রহমান, ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, ওয়ান বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক রাশেদুল হাসান, টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিজম তুরস্কের সাধারণ সম্পাদক লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি, গৌরব ‘৭১-এর সাধারণ সম্পাদক এম শাহীন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।