ফুল

সুবাসিত মহুয়া

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ২১:২৫

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের শালবনে গিয়ে দেখেছিলাম মহুয়া গাছ। জেনেছিলাম, মহুয়া ফুল ও ফল আদিবাসী সাঁওতালদের কাছে অতি পূজনীয় ও সমাদৃত। এই অরণ্যের মহুয়া আদিবাসীদের প্রিয়।

পাকা ফলের গন্ধ চারদিক সুবাসিত করে তোলে। ফুলের মিষ্টি গন্ধ মানুষ এবং প্রাণীকেও মাতাল করে। ফলের শাঁস মিষ্টি, স্বাদে গুণে দারুণ মজা! অঞ্চলভেদে ভাতকে সুগন্ধযুক্ত করতে মহুয়া ফুল দেওয়া হয়! মহুয়াকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়ে থাকে; যেমন ‘মহুলা’, ‘মধুকা’, ‘মোহা’, ‘মোভা’, ‘মহুভা’ ইত্যাদি।

মহুয়া মধ্যম থেকে বৃহত্ আকারের বৃক্ষ। পাতা বল্লমাকার, ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার। বৃন্ত ছোট। ফুলগুলো রসাল এবং স্বাদের দিক দিয়ে অম্লমধুর। এই ফুল রাতে ফোটে, ভোরের আলো না ছড়াতেই ঝরে যায়। গাছের ছাল ধূসর রঙের। ছালের গভীরতা প্রায় আধা ইঞ্চির মতো।

মহুয়া ফল জলপাই বা সুপারির মতো। কাঁচা ফলের রং সবুজ। জুন থেকে জুলাই মাসে ফল ধরে ও পরিপক্ব হয়। পাকা ফলের মধ্যে সফেদার বিচির মতো বাদামি রঙের একটি বিচি থাকে।

শীতে গাছের সব পাতা ঝরে যায়। অনেক বড় আকারের গাছ—৩০ থেকে ৩৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। মহুয়ার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়। এর কাঠ অনেক শক্ত, টেকসই। তাই এ গাছের কদর অনেক।

মহুয়ার পাতা, বাকল, ফুলের রস ও বীজের তেল নানা রোগের চিকিত্সায় ব্যবহার হয়—মৌসুমি সর্দি-কাশি, চুলকানি, অগ্নিমান্দ্য, অর্শ, বাতের ব্যথা, মাড়ির রক্ত পড়া, মাথাব্যথা, বহুমূত্র রোগে। যে কোনো কাশিতে মহুয়ার ফুল বেটে, দিনে তিনবার কয়েক দিন খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। পুরোনো ক্ষত ও কীট দংশনেও বিষ-ব্যথানাশক মহুয়ার কোনো জুড়ি নেই। পাহাড়ি এলাকার মানুষেরা মশার যন্ত্রণা, কীটপতঙ্গের দংশনের ক্ষেত্রে মহুয়া বীজের তেল ব্যবহার করে আসছে।

মহুয়া মধ্যভারতের আদি বাসিন্দা। বাংলাদেশের বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল প্রভৃতি জেলায় মহুয়া গাছ আছে। মহুয়া শুষ্ক অঞ্চলের গাছ হলেও আর্দ্র ও কোমল আবহাওয়াতে বেশ ভালো জন্মায়।