লকডাউনের প্রভাব
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
তরমুজ উত্পাদনে অন্যতম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। তরমুজের ফলন যেমন ভালো, বাজার দামও বেশি। তাই রাঙা তরমুজে হাসি ফুটেছে চাষিদের। তবে খেতের ভালো ফলন দেখে মুখে হাসি ফুটলেও বিলম্বে আবাদ করা চাষিদের সেই হাসি এখন দিনদিন মলিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ, তারা বলছেন, এখনো খেতে প্রচুর তরমুজ। কঠোর লকডাউনে তাদের ক্ষতি হচ্ছে। তাই চাষিদের দাবি, এই ক্ষতি ঠেকাতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাদের কাছ থেকে তরমুজ ক্রয় করা হোক।
নাটোর থেকে রাঙ্গাবালীর কাউখালী গ্রামে তরমুজ কিনতে আসা পাইকার নুরুল ইসলাম বলেন, ট্রাক আগে যেটা ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া করতাম। লকডাউনের কারণে এখন সেটা ৪০-৪৫ হাজার টাকা। ৪০ হাজার টাকার ট্রলারের ভাড়া ৬০-৭০ হাজার। খেতে প্রচুর তরমুজ কেনা। লকডাউনের কারণে চাষি এবং আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। কারণ, রাস্তায় যদি মানুষ না থাকে তাহলে তরমুজ কিনবে কে? আর আমরা বিক্রিবা করব কেমনে? তরমুজ চাষি মোহাম্মদ সাদ্দাম বলেন, তরমুজ আবাদের শুরু থেকে তেমন লাভের মুখ দেখেননি। গত বছর লকডাউন ও অতিবৃষ্টিতে তার পাঁচ-ছয় লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিবর্ষা কিংবা প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হওয়ায় এবার লাভবান। আমার মতো এবার আগে ভাগে যারা তরমুজ বিক্রি করতে পেরেছেন, তারা কমবেশি সবাই লাভবান হয়েছেন। তবে তরমুজ বিক্রি শেষ হতে এখনো প্রায় ১০-১৫ দিন সময় লাগবে। লকডাউনের বড় ধরনের প্রভাব পড়লে শতকরা ৩০ ভাগ চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে যেসব চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এ বছর সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পেরেছেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, লকডাউনের জন্য জারিকৃত সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কৃষিপণ্য হিসেবে তরমুজ পরিবহনে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কৃষকরা নির্বিঘ্নে তরমুজ বাজারজাত করতে পারবেন। কোনো ধরনের সমস্যা হলে কৃষকরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
