যে গ্রামে বাতাসে লেবুর ঘ্রাণ

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩০

মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া গ্রাম। বাইরের যে কেউ এ গ্রামে ঢুকলে অবাকই হবেন। কারণ এ গ্রামের বাতাসে ভেসে বেড়ায় লেবুর সুগন্ধী ঘ্রাণ। যেন এটি কোনো গ্রাম নয় বরং বিস্তীর্ণ এক লেবু বাগান। গ্রামটিতে প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে লেবু গাছ। বাড়ির উঠান, আঙিনা যেখানেই ফাঁকা জায়গা, সেখানেই লেবু গাছ লাগানো হয়েছে। আছে দেড় শতাধিক ছোট-বড় লেবুর বাগান। লেবু চাষের বিস্তৃতি আর সাফল্যে ‘বালিয়াখোড়া’ এখন পরিচিত লেবুর গ্রাম নামে।

পাইকারি দরও বেশ ভালো, তাই শুধু সুগন্ধীর দাবিদার নয়, লেবু চাষ পালটে দিয়েছে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট। পাইকাররা বাগান থেকেই লেবু সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। তাই কৃষকদের বাড়তি কষ্ট করতে হয় না। ফলে লেবুচাষিরা করোনাকালীন এই দুঃসময়েও অর্থনৈতিকভাবে বেশ ফুরফুরে। উপজেলার বালিয়াখোড়া ও পার্শ্ববর্তী সোদঘাটা গ্রামের প্রায় দুই সহস াধিক বাসিন্দা লেবু চাষের ওপর নির্ভরশীল। এখানকার চাষিরা কলম্বো, এলাচি ও কাগজি জাতের লেবু চাষ করেন। এলাচি জাতের লেবু স্বাদে ভালো হলেও ফলন কম হওয়ায় চাষিরা কলম্বো জাতের লেবু বেশি চাষ করছেন। এখানকার চাষিদের উত্পাদিত বিভিন্ন জাতের লেবু ঢাকার পাইকারদের মাধ্যমে দেশ ছাড়িয়ে স্থান করে নিয়েছে বিশ্ব বাজারে। করোনা পরিস্থিতিতে চলতি মৌসুমে সৌদি আরব, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১০ টন লেবু রপ্তানি হয়েছে।

বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল খান বলেন, লেবু চাষে ইউরিয়া, টিএসপি ও পটাশ সার, ভিটামিন এবং কীটনাশক লাগে। কৃষি বিভাগ থেকে লেবুচাষিদের কোনো সহায়তা দেওয়া হয় না। কৃষি বিভাগ একটু নজর দিলে লেবুচাষিরা আরো ভালো করবে।  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, ঘিওরের বালিয়াখোড়া ও সোদঘাটা গ্রামের চাষিরা লেবু চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন। তারাই মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সমস্যার সমাধার দেওয়ার কথা। যদি কোনো গাফিলতি করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষি বিভাগ থেকে ঐ এলাকার লেবুচাষিদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।