নারায়ণগঞ্জে নানা অজুহাতে সড়কে মানুষের ঢল

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩০

মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

করোনা ঠেকাতে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধেও গতকাল নারায়ণগঞ্জের সড়ক ও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ছিল লোকারণ্য। বেশির ভাগ মানুষের মুখে ছিল না মাস্ক। দেখা যায়নি সামাজিক দূরত্ব। এর মধ্যেই সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। সর্বাত্মক বিধিনিষেধ পালনে পুরো জেলায় ২০ জন ম্যাজিস্ট্রেট আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শত শত সদস্য মাঠে থাকলেও প্রয়োজন ছাড়া নানা অজুহাতে বের হয়ে আসছে মানুষ। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় পুলিশের প্রহরা বেশি থাকায় লোকজন কম থাকলেও নগরীর আশপাশ এলাকা ও বাজারগুলোতে মানুষের ঢল। এদিকে করোনার হটস্পট খ্যাত নারায়ণগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যাও। চলতি মাসে গত ১৬ দিনেই সরকারি হিসাবে পুরো জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৩৮ জন। শনিবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায়  আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৯৯ জনে। একই সঙ্গে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরো ৭৩ জন। অর্থাত্ প্রতিদিন গড়ে ১২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অপরদিকে গত ১৬ দিনে সরকারি হিসাবে জেলায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৮ জন। তবে নারায়ণগঞ্জের অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে মারা যাচ্ছেন বলে সরকারি হিসাবের বাইরে এ মৃতের সংখ্যা ৩৫ জনের মতো বলে জানা গেছে।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, শহরের মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো বন্ধ থাকলেও বিধিনিষেধের আওতামুক্ত খাবারের দোকান, ওষুধের দোকান ও বাজার খোলা ছিল। শহরে যানবাহন ও মানুষের চলাচল কম থাকলেও  প্রধান বাজার দিগুবাবুর বাজারের দৃশ্য ছিল একেবারে ভিন্ন। সেখানে ছিল রীতিমতো উপচেপড়া ভিড়। বাজারে লোকজনের মুখে ছিল না মাস্ক। আর সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই লক্ষ্য করা যায়নি। শুধু তাই নয় শহরের আশেপাশে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় প্রয়োজন ছাড়া রাত ১১টা পর্যন্ত থাকে লোকে লোকারণ্য। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরে মানুষের সমাগম কম থাকলেও বিকাল থেকে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। বিশেষ করে চাষাঢ়ায় ফলের দোকানগুলো এবং ইফতারির বাজারে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া পাড়া মহল্লার ইফতারির দোকানগুলোতেও একই অবস্থা। এসময় সামাজিক দূরত্ব অমান্য করেছেন সবাই। যদিও লকডাউন কার্যকর করতে কঠোর অবস্থানে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় নিষেধাজ্ঞা মেনে ঘরে থাকতে মানুষকে সচেতন করার কাজ করেন তারা।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ২০ জন ম্যাজিস্ট্রেট সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বাইরে অভিযান চালাচ্ছেন। অপ্রয়োজনে বের হওয়া শতাধিক প্রাইভেটকার জব্দ ও জরিমানা করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ করোনা সমন্বয় কমিটির ফোকাল পারসন ডা. জাহিদ জানান, ‘সরকারের বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে পালন না করায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আগে থেকেই বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ করছিলাম। মানুষকে যতভাবে সচেতন করা যায় আমরা কোনো ত্রুটি রাখছি না। কিন্তু এরপরও শত শত মানুষ বিনাপ্রয়োজনে বাইরে যাচ্ছেন, সরকারের বিধিনিষেধের  বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যন্ত প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এদিকে বন্দরে সর্বাত্মক লকডাউন কার্যকর করতে সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে প্রশাসন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।