ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে ১১ বছর বয়সি অজ্ঞাত শিশু গুরুতর আহত হয়ে ১০৪ দিন যাবত্ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ১০৪ দিন হয়ে গেল এখনো আহত ঐ শিশুর পরিবারের পরিচয় মিলেনি। কয়েক দিন আগে শিশুটি অবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হলেও আজকে সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে এত দিন শিশুটি চোখ মেলতে পারত ও কথা বলার চেষ্টা করত? মুখে খাবার দিলে তা গিলতে পারত। তবে এখন আগের মতো চোখ মেলতে পারে না ও কথা বলার শক্তি পায় না। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) বিকালের দিকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এ কে এম নিজাম উদ্দিন শিশুটির অবস্থা অবনতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সার্জারি বিভাগের সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাত শিশুটি তিন মাস আগে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি হয়। ঐদিন থেকে হাসপাতালে সার্জারি চিকিত্সক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সেবায় শিশুটির শারীরিক অবস্থা অনেক উন্নতি হয়েছিল। এখন শিশুটি আগের মতো চোখ মেলতে পারে না। মাঝেমধ্যে কথা বলার চেষ্টা করলে এখন করতে পারে না। ঐ শিশুর মুখে খাবার দিলে তা গিলতে খুব কষ্ট হয়। যেহেতু ঐ শিশুর কেউ নেই, তাই সার্জারি বিভাগ হয়েছে শিশুটির চিকিত্সার শেষস্থল।
ঐ শিশুর যাবতীয় ওষুধ হাসপাতাল বহন করলেও খাওয়া-দাওয়া জোগান দিচ্ছে পরিচ্ছন্নকর্মী উজ্জ্বল ও বিভিন্ন সামাজিক-মানবিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই শিশুটি অসচেতন ছিল। কয়েক দিন আগে শিশুটির শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি ছিল। কিন্তু হঠাত্ ছেলেটি আগের চেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ঐ শিশুর যাবতীয় ওষুধপত্র হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। কয়েক দিনের ভেতরে শিশুটির একটি ব্রেনের সিটি স্ক্যান করানো হবে। তারপর শিশুটির শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানানো যাবে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, যেহেতু ১১ বছর বয়সি শিশুটি অজ্ঞাত, তার পরিবারের লোকদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। ইতিমধ্যে জানতে পারছি যে, কসবার গংগাসাগর থেকে ঐ শিশুর মা এসে দেখে গেছেন। পরবর্তীকালে আর কোনো খোঁজ রাখেননি ঐ মহিলা। আমরা খুব শিগিগরই পরিবারের খোঁজ পাবো।
