সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে দেশের সাত বিভাগে সম্প্রতি সাতটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব ট্রাইব্যুনালে বিচারকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এসব সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গত ৬ এপ্রিল সরকার ঢাকা বাদে দেশের সাত বিভাগে নতুন করে সাতটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বিভাগওয়ারি প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে কোন কোন জেলার অধিবাসীরা মামলা করতে পারবে, সেটাও উল্লেখ করে দেওয়া হয়। এই সাত বিভাগে নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও ঢাকায় সাইবার ট্রাইব্যুনাল ছিল আগে থেকে। তখন এই ট্রাইব্যুনালে দেশের যে কোনো নাগরিক সাইবার অপরাধের শিকার হলে মামলা করতে পারতেন। কিন্তু এখন বিভাগওয়ারি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট জেলার নাগরিককে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে।
এদিকে সাত বিভাগে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার মামলা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাইবার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে বেশ কিছু মামলার নথি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাইবার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সেই কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের সব বিভাগে ট্রাইব্যুনাল গঠন করায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি দ্রুত মামলা দায়ের করতে পারবেন। পাশাপাশি একাধিক ট্রাইব্যুনাল হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তিও হবে দ্রুত।
প্রসঙ্গত, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলার বিচারের জন্য ঢাকায় একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। পরে প্রণয়ন করা হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। গুজব ছড়ানো, বিভ্রান্তি সৃষ্টি, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ অনলাইন প্ল্যাটফরম ব্যবহারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য এই আইনে মামলা করা হয়। ঐ আইনে দায়েরকৃত মামলাসমূহ বিচার ও নিষ্পত্তি হচ্ছে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত মামলার জট কমাতে সাইবার ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল ছাড়াও গঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল, রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল, খুলনা সাইবার ট্রাইব্যুনাল, বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনাল, সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনাল, রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও ময়মনসিংহ সাইবার ট্রাইব্যুনাল। ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা অন্তর্ভুক্ত। চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা রয়েছে। রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের আওতায় রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা রয়েছে।
খুলনা সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলা রয়েছে। বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা ও ভোলা জেলা থাকবে বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে। সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা। রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলাকে রংপুরের সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে রাখা হয়েছে। ময়মনসিংহের সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনা জেলা।
এখন নতুন গঠিত বিভাগওয়ারি সাত ট্রাইব্যুনালের যেসব মামলা ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলো স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
