স্বনামখ্যাত আলেম ওলামারা এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, রসুল (সা.) জীবদ্দশায় ইসলামের মর্মবাণী প্রচার করতে গিয়ে অন্য ধর্মের মানুষের অপমান-আঘাত, বাধার শিকার হয়েও কোনোদিন তাদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেননি। বরং সব সময় তাদের প্রতি সহমর্মিতা, বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকে দেশে হেফাজতে ইসলাম ধর্ম রক্ষার নামে যেভাবে অন্য ধর্মের মানুষের উপাসনালয়ে, তাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে তা আমাদের রসুলের দেখিয়ে যাওয়া পথের পরিপন্থি। তাই এরা কখনোই প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না। হেফাজতে ইসলাম হচ্ছে দেশে ফেতনা সৃষ্টিকারী ফাসেকের দল। এদের হাতে আমাদের শান্তির ধর্ম ইসলাম নিরাপদ নয়।
গতকাল শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ৫১ আলেম ওলামা এ কথা বলেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, আলেম সমাজের নামে স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে হেফাজত। বিবৃতির উদ্দেশ্য বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বের বিভিন্ন অপকর্ম এবং দেশ ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যেভাবে জনগণ ও আলেম-ওলামারা ফুঁসে উঠেছে তা আড়াল করা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে গত মার্চ মাসে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে ইসলাম রক্ষার নামে হেফাজতে ইসলাম ২৫-২৮ মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল। হেফাজতের বর্তমান নেতৃত্ব মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষকদের ভুল প্ররোচনার মাধ্যমে তাদের ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভাঙচুর, সরকারি অফিস-আদালত, ভূমি অফিস, পুলিশ স্টেশন, বিদ্যুত্ অফিস, শিশুদের বিদ্যালয়, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত যানবাহনে আগুন দিয়েছিল। তারা বলেন, তারা সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছিল। এরা মূলত ইসলামের শত্রু। মুখে ইসলামের কথা বলে, ধর্মের দোহাই দিয়ে আসলে হেফাজতে ইসলাম রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ব্যস্ত।
বিবৃতি দেওয়া ৫১ জন আলেম-ওলামা হলেন মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন, মাওলানা মো. আফলাতুল কাওছার, হাফেজ মাওলানা মো. জহিরুল ইসলাম খান, ডা. প্রফেসর আল এমরান, মাওলানা মো. মুফতি সাহাবুদ্দিন ভুইয়া, মাওলানা মো. মুহিবুল্লাহ, মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা, মাওলানা মো. আব্দুল আজিজ, মাওলানা মো. মোস্তফা চৌধুরী, মাওলানা মো. ইলিয়াস হোসাইন, মাওলানা মো. এখলাছুর রহমান, মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান, মাওলানা মো. নুরে আলম সরকার, মাওলানা মো. শামসুল হক, মাওলানা মো. আবুল খায়ের মজুমদার, মাওলানা মো. নুরুল আমিন পির সাহেব ভাঙা, শাইখুল হাদিস মাওলানা মো. শাহাদাত হোসেন, মাওলানা শাহ মো. ওমর ফারুক, মাওলানা মো. জসিম উদ্দীন, মাওলানা মো. এনামুল হক সিদ্দিকী, মাওলানা মো. মনির হোসাইন চৌধুরী, ড. মো. আবু বকর ছিদ্দিক, মাওলানা মো. হারুন, মাওলানা মো. মোছাদ্দেক, মাওলানা মো. ওসমান গনী, মাওলানা মো. নুরুল ইসলাম, মাওলানা মো. রেজাউল করিম, কাজী মাওলানা মো. তাজুল ইসলাম, মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ ফারুখ আব্দুল্লাহ, মাওলানা মো. মুনজুরুল ইসলাম, মাওলানা মো. জহিরুল ইসলাম, মাওলানা মো. দৌলতখান, মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান, মাওলানা মো. আজমীর হোসাইন, আলহাজ মো. হারুনুর রশিদ, মাওলানা মো. ফয়জুল্লাহ, অ্যাডভোকেট মনির হোসেন, মোসা. আফসানা পারভিন মনা, মোসা. জয়নব আরা ফেরদৌসী, মোসা. রোকেয়া বেগম, মোসা. ইসরাত জাহান লামিয়া, মাওলানা মো. আব্দুল কাইউম, শাহ মাওলানা মো. আনোয়ারুল হক, মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন ফরিদপুরী, মাওলানা মো. মিজানুর রহমান, মাওলানা মো. মিজানুর রহমান, মাওলানা মো. আলমগীর হোসেন, মাওলানা মো. ইকবাল, মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা, মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম ও মাওলানা মো. মিজানুর রহমান।
