যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল
আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর অফিস
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৬ নম্বর মহিলা সার্জারি ওয়ার্ড খালি করে আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তুত ছয়টি শয্যা। এর তিনটিতে বসানো হয়েছে জোড়াতালির তিনটি ভেন্টিলেটর। চালু হাইফ্লো অক্সিজেনও। এরই মধ্যে হাসপাতালের বর্তমান জনবলকে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইসিইউ ভেন্টিলেটর ব্যবস্থাপনায় যুক্তও করা হয়েছে। ১৭ এপ্রিল থেকে ছয় জন চিকিত্সক ও ১০ জন নার্স আইসিইউ ইউনিটে দায়িত্ব পালনও শুরু করেছেন। এখানে সেবা নেওয়ার মতো রোগীও আছেন—যারা কোভিড আক্রান্ত হয়ে এই ইউনিটেরই এক ফ্লোর ওপরে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিত্সা নিচ্ছেন। তবুও রোগী ভর্তি করা যাচ্ছে না আইসিইউ ইউনিটে। কারণ ইউনিটের জন্য অপরিহার্য ইনফিউশন পাম্প ও পেশেন্ট মনিটর পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ২২ ধরনের যন্ত্রপাতি ও মেশিনের চাহিদা দিয়ে সেগুলোও পায়নি।
সূত্র জানায়, বৈশ্বিক মহামারির প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত জুন মাসে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ চালুর সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ইএনটি হাসপাতালে পড়ে থাকা ছয়টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর যশোর হাসপাতালের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়। এসব ভেন্টিলেটরের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রেড ভিশন গত ৫ জানুয়ারি ছয়টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর হাসপাতালে সংযোজন করে। এর মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ভালো, দুটি আংশিক ভালো থাকলেও তিনটি একেবারেই অকেজো ছিল—যা সাড়ে তিন মাসেও ঠিক করা হয়নি। এ ব্যাপারে ট্রেড ভিশনের ডেপুটি ম্যানেজার মো. আরমান হোসেন মোবাইলে ইত্তেফাককে বলেন, চীনের তৈরি এসব ভেন্টিলেটরের প্ল্যান্টেই মাল কম ছিল। স্পেয়ার পার্টস পোর্টে চলে এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই এগুলো ঠিক করে দেব বলে গ্যারান্টি দিচ্ছি। এদিকে ইনফিউশন পাম্প ও পেশেন্ট মনিটরের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও কোনো আশার আলো দেখতে না পেয়ে স্থানীয়ভাবেই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার যশোর সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত করোনা প্রতিরোধে জেলা কমিটির সভায় পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, যশোরের মতো জেলায় আইসিইউ নেই, এটা রীতিমতো বিস্ময়কর। তিনি স্থানীয়ভাবে ইনফিউশন পাম্প ও পেশেন্ট মনিটর সংগ্রহ করে আইসিইউ ইউনিট চালুর প্রস্তাব করেন। এসব সরঞ্জামাদির মধ্যে পুলিশ সুপার ঢাকার একজন দানশীল ব্যক্তির কাছ থেকে একটি এবং পৌরসভা ও জেলা পরিষদের সহায়তায় তিনটি সেট সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আইসিইউ ইউনিটের ইনচার্জ সহযোগী অধ্যাপক আহসান হাবীব বলেন, এই ইউনিটের বিশাল স্থাপনার জন্য অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আমরা হাসপাতালের স্বাভাবিক অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বের পাশাপাশি ছয় জন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করব। তবে এটাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দরকার হবে। যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, স্থানীয় সহায়তায় সাড়ে ৭ লাখ টাকায় রবিবারই তিন সেট ইনফিউশন পাম্প ও পেশেন্ট মনিটর কেনা হয়েছে। সোমবার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে এগুলো ঢাকা থেকে যশোর আনা হবে। আর এ সপ্তাহেই চালু করার আশা করছি আইসিইউ। আইসিইউতে নেওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এসডিইউ চালু করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
