ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
অনাবৃষ্টিতে পশ্চিমের ছয় জেলায় পাট চাষ ব্যাহত হচ্ছে। সেচ দিয়ে চাষ করা পাট খেতগুলো ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কচি পাট গাছগুলো মরে যাচ্ছে। স্যালো মেশিনে পানি না উঠায় ফের সেচ দিতে পারছেন না কৃষক। তারা বৃষ্টির জন্য আকাশ পানে চেয়ে আছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার পর্যন্ত যশোর জেলায় ৬ হাজার ৬০৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহে ১৩ হাজার ৯৩০ হেক্টরে, মাগুরায় ২৯ হাজার ৮৫০ হেক্টরে, কুষ্টিয়ায় ১৪ হাজার ২৫০ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় পাঁচ হাজার ২৫০ হেক্টরে এবং মেহেরপুর জেলায় ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে পশ্চিমের ছয় জেলায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখনও ৬৬ হাজার ৬৫০ হেক্টরে চাষ বাকি আছে। পাট চাষ বৃষ্টি নির্ভর। চৈত্র মাসে বৃষ্টি হলে চাষিরা পাটের বীজ বপন শুরু করে। কোনো কোনো বছর একবার সেচ দিয়ে বীজ বপন করে। বৃষ্টির পানিতে পাট গাছ বেড়ে উঠে। কিন্তু চলতি বছর ব্যতিক্রম আবহাওয়া বিরাজ করছে। পাঁচ মাস যাবত্ বৃষ্টি হয় না। মাঠ পুড়ে খা খা করছে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার চর সোনদাহ গ্রামের চাষি আমিরুল ইসলাম জানান, এবার আট বিঘা জমিতে পাট চাষের আশা ছিল। চাষ দিয়ে জমি তৈরি করে রেখেছেন। সেচ দিয়ে সাড়ে তিন বিঘায় পাট চাষ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় তার সেচ যন্ত্রে পানি উঠছে না। এতে বাকি সাড়ে চার বিঘাতে পাটবীজ বুনতে পারছেন না। অপরদিকে আগে বোনা পাটখেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কচি পাট গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। একই উপজেলার হাজামপাড়া গ্রামের মোবারক আলি বলেন, দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। বৃষ্টির অভাবে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। চারা গাছ মরে যাচ্ছে। মেশিনে নিচের পানি উঠছে না। মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি শামসুল ইসলাম বলেন, তাদের এলাকায়ও বৃষ্টি নেই। পাটখেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহেদুল আমিন বলেন, টানা পাঁচ মাসের বেশি সময় বৃষ্টি নেই। এতে পাট চাষ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি জানান, এখনো সময় আছে। বৃষ্টি হলে চাষ করা যাবে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ যন্ত্রে পানি উঠছে না।
এদিকে তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, তালায়ও অনাবৃষ্টির কারণে পাট চাষ ব্যাহত হচ্ছে। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় পাটচাষিরা সেচের মাধ্যমে পাট চাষ করেছেন। অনাবৃষ্টিতে কৃষকের বপন করা পাটের চারা রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে। তাদের ধারণা যদি দাবদাহ আরো কিছুদিন অব্যাহত থাকে তাহলে কৃষকের পাটের চারা নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। উপজেলার হাজরাকাটী গ্রামের চাষি শেরআলী সরদার, জুজখোলা গ্রামের হাবিবুর রহমান, লক্ষণপুরের আব্দুর রহমান, আমতলাডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামসহ কয়েক জন জানান, তারা এ পর্যন্ত মাত্র দুই থেকে তিন বার জমিতে সেচ দিয়েছেন। এ বছর পাট চাষে খরচ অনেক বেশি হবে। বর্ষা না হওয়ায় পাটখেতের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে বর্তমান দাম যদি ঠিক না থাকে তাহলে তাদের লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন। তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, এ বছর তালা উপজেলায় ২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্র ধরা হলেও পাট চাষ হয়েছে দুই হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে পাটের দাম বেশি হওয়ায় কৃষক পাট চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিদের একটু সমস্যা হচ্ছে, এটা প্রাকৃতিক বিষয় বলে জানান তিনি।
