বিধিনিষেধের পঞ্চম দিন
ইত্তেফাক ডেস্ক
বিধিনিষেধের পঞ্চম দিনে বিভিন্ন স্থানে মানুষের ভিড় বেড়েছে। বেড়েছে যানবাহন চলাচলও। তবে কয়েকটি স্থানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে ঈশ্বরদীতে যাত্রী বোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
ঈশ্বরদী (পাবনা) : গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও লকডাউন উপেক্ষা করে ট্রাকে মানুষ পরিবহনের সময় ঈশ্বরদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রীবোঝাই ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। রবিবার পাকশী হাইওয়ে থানাপুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে। হাইওয়ে থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল ঐ ট্রাক। পাকশী হাইওয়ে থানাপুলিশ দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড়ের চেকপোস্টে সিগন্যাল দিলে ট্রাকটি সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুতগতিতে সটকে পড়ার চেষ্টা করে। প্রায় ১৩ কিলোমিটার ধাওয়া করে রূপপুর গ্যাস পাম্পের সামনে পুলিশ ট্রাকটি থামায়। এরপর ত্রিপল সরিয়ে ট্রাকের ডালা খুলতেই ৬৩ জন যাত্রীকে দেখা যায়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে ট্রাকে উঠেছিলেন বলে জানান তারা। ট্রাকটি পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং যাত্রীদের লালন শাহ সেতু পার হওয়ার ব্যবস্থা করা হলে তারা যে যার গন্তব্যে চলে গেছেন বলে জানান তিনি। এদিকে রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আরো কয়েকটি পিকআপ ও ট্রাক থেকে যাত্রীদের নামিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী : রাজশাহী শহরের প্রতিটি প্রবেশপথ এমনকি মোড়ে মোড়ে পাহারা দিচ্ছে পুলিশ। আর ভেতরে কখনো কখনো রাস্তায় বের হওয়া মানুষের পথ আটকে জিজ্ঞাসাবাদও করছেন পুলিশ সদস্যরা। কখনো রিকশা-অটোরিকশার যাত্রীদের নামিয়েও দিচ্ছেন। তারপরও রাজশাহী শহরে মানুষের চলাচল বেড়েছে। রাস্তায় বের হওয়া নিয়ে পুলিশ কড়াকড়ি করলেও কারও কাছে মুভমেন্ট পাশ চাইতে দেখা যাচ্ছে না। রবিবার সকালে নগরীর সাহেববাজার এলাকায় মিজান আহম্মেদ বলেন, তিনি কাঁচাবাজার করতে গিয়েছিলেন। বাজার করেই বাড়ি চলে যাবেন। মুভমেন্ট পাশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি কোনো পাশ নেননি। পাশ না নেওয়ায় পুলিশও কোথাও বাধা দেয়নি, প্রশ্ন করেনি। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, এখানে কেউ একেবারেই মুভমেন্ট পাশ নিচ্ছে না, বিষয়টা এমন নয়। অনেকেই নিচ্ছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি ব্যাপক আকারে চেক করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র শহরের প্রবেশ পথগুলোতে চেক করা হচ্ছে। শহরের ভেতর তেমন চেক করা হচ্ছে না।
নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, লকডাউনে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তারপরও নানা অজুহাতে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেন।
নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় রবিবার সকাল থেকেই ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন অবাধে চলছিল। যাত্রী পরিবহনেও কোনো বাধা ছিল না। শুধু শপিংমলগুলো বন্ধ ছিল। তবে ব্যবসায়ীরা ফাঁকে ফাঁকে দোকান খুলেছেন। এমনকি চক মসজিদ এবং শহিদ মিনার সড়কে দুই একবার যানজটেরও সৃষ্টি হয়। এদিকে অটোরিকশার দৌরাত্ম্যও ছিল দেখার মতো। গাদাগাদি করে তারা যাত্রীও বহন করে।
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি শহরে রবিবার যানবাহন চলাচল কিছুটা বেড়ে যায়। শহরকেন্দ্রিক রিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। নানা অজুহাতে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়েছেন। অনুমোদনহীন দোকান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তা মানছেন না অনেকে। তবে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট অবস্থান নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ট্রাফিক পুলিশ। অপ্রয়োজনীয় যানবাহনকে জরিমানাসহ ফেরতও পাঠানো হচ্ছে। অনেক স্থানে প্রশাসনের উপস্থিতি দেখে দোকান বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় গাড়ি ঘুরিয়ে নেওয়া কিংবা মাস্ক পরতে দেখা গেছে।
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) : চন্দনাইশে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। রবিবার জনগুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম এবং হাটবাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হয় প্রচুর। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে রিকশা টেক্সি চলাচল করেছে। উপজেলা সদর কাঁচাবাজারে দেখা গেছে, ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা অনেকেরই মুখেই মাস্ক নেই। গাদাগাদি করে বেচাকেনা চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাঁচাবাজারগুলো খোলা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
