বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা
বোরহানউদ্দিনে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সকদের। রোগীর চাপ বাড়ায় দেখা দিয়ে শয্যা সংকট। অনেককেই শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের ফ্লোরে চিকিত্সা নিতে হচ্ছে। এদিকে হাসপাতালের ডায়রিয়ার স্যালাইন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে না স্যালাইন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়ার পরিবর্তন, পুকুরের পানি ব্যবহার, অসচেতনতার কারণে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত সাত দিনে প্রায় ৩৬৩ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রবিবার পর্যন্ত হাসপাতালের ডায়রিয়ার স্যালাইন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সূত্রে আরো জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩২ জন, ১১ এপ্রিল ৫০ জন, ১২ এপ্রিল ৬১, ১৩ এপ্রিল ৫২, ১৪ এপ্রিল ৫৩, ১৫ এপ্রিল ৬৩, ১৭ এপ্রিল ৫১ জন।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত কাচিয়া ইউনিয়নের মিনজু বেগম জানান, হাসপাতালে স্যালাইন নেই। বাইরেও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বেশি দাম দিলে স্যালাইন পাওয়া যায়। সেবা নিতে আসা সিরাজ বিশ্বাস ও শাহজাহান জানান, ১ হাজার মিলিলিটার স্যালাইন চার-পাঁচ শত টাকায় বিক্রয় করতে হচ্ছে।
বোরহানউদ্দিন পৌরবাজারের ওষুধ বিক্রেতা আকবর হোসেন মানিক, রুবেল, মঞ্জু জানান, ওষুধ কোম্পানিগুলো ডায়রিয়ার স্যালাইন সরবরাহ করতে পারছেন না। ফলে স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। ডাক্তার মশিউর রহমান সাদি বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাডছেই। এরকম পরিস্থিতিতে মায়েরা বাচ্চাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। খাবার পানি ফুটিয়ে ও রান্নাবান্নার পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এটি মৌসুমি ডায়রিয়া। বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাক্তার তপতি চৌধুরী বলেন, ডায়রিয়া দিনে ১০০ রোগী ভর্তি হয়েছে। বেশি রোগী হওয়ার কারণে বারান্দায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্যালাইন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই স্যালাইন পাওয়া যাবে।
